আপনার নখই বলে দেবে শরীরে কোন মারাত্মক রোগ বাসা বেঁধেছে! এক পলকে চিনুন লক্ষণ।

আমাদের ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে শরীরের ছোটখাটো লক্ষণগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুব সাধারণ। কিন্তু জানেন কি, আমাদের হাতের ও পায়ের নখ কেবল সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক নিখুঁত দর্পণ। চিকিৎসকদের মতে, রক্তাল্পতা, হৃদরোগ থেকে শুরু করে কিডনি বা থাইরয়েডের মতো জটিল রোগও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বদলে প্রথম জানান দেয় নখের মাধ্যমে। একটু সচেতন হলে এবং নখের রঙ, আকৃতি বা কাঠামোর সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
সাধারণত সুস্থ মানুষের নখ পরিষ্কার, হালকা গোলাপি রঙের এবং সামান্য উত্তল বা মসৃণ হয়। কিন্তু যখনই শরীরে পুষ্টির অভাব বা কোনো রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে, নখের চেহারায় তার স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, নখ যদি ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যায়, তবে তা শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার বা অ্যানিমিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ। অন্যদিকে, নখের রঙ যদি অস্বাভাবিকভাবে নীলচে বা কালচে হতে থাকে, তবে তা রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া নখে যদি ছোট ছোট খিলান, ফাটল বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা ভিটামিন বা খনিজের তীব্র ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে।
নখের আকৃতিগত পরিবর্তনও অনেক সময় বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘ক্লাবিং’ বলা হয়, সেই অবস্থায় নখের অগ্রভাগ ফুলে ওঠে এবং আঙুলের ডগা গোল হয়ে যায়। ফুসফুসের জটিল রোগ, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস কিংবা হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের লক্ষণ সচরাচর দেখা যায়। আবার নখে যদি গভীর অনুদৈর্ঘ্য রেখা বা দাগ দেখতে পাওয়া যায়, তবে তা থাইরয়েড গ্রন্থির অনিয়মিত কার্যকলাপ কিংবা বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের সাথে যুক্ত হতে পারে। ছত্রাক সংক্রমণ বা ডার্মাটাইটিসের কারণেও নখ হলুদ ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত নখের যত্ন নেওয়া এবং এর পরিবর্তনের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অবহেলা অনেক সময় বড় ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন ডেকে আনতে পারে। তাই নখে কোনো অস্বাভাবিকতা বা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন লক্ষ্য করলে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই সুস্বাস্থ্যের প্রথম এবং প্রধান চাবিকাঠি।