মোদী জমানায় ঘুচল ইউপিএ আমলের লালফিতের ফাঁস! রেল পরিকাঠামোয় যুগান্তকারী বিপ্লবের দাবি প্রধান মন্ত্রীর

বিগত ইউপিএ সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর বা ডিএফসি (Dedicated Freight Corridor) প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ভোদোরায় আয়োজিত ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই উচ্চাভিলাষী রেল প্রকল্পটিকে বছরের পর বছর ধরে কেবল সরকারি লালফিতের ফাঁসে ও ফাইলবন্দি করে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার কেন্দ্রে আসার পরেই এই প্রকল্পের কাজে অভূতপূর্ব গতি আনা হয়। ২,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর সম্পূর্ণ হওয়াকে ভারতের সার্বিক পরিকাঠামো ও কানেক্টিভিটি অভিযানের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ২০০४ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর রূপায়ণের দায়িত্বে একটি বিশেষ কোম্পানি গঠন করা হয় ২০০৬ সালে। অথচ ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজের গতি কচ্ছপের গতিতে চলেছে। মোদীর কটাক্ষ, সেই সময় ফাইলগুলি কেবল টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরে বেড়াত। ফাইলগুলোর এতটাই দুর্ভাগা দশা ছিল যে, একটি নির্দিষ্ট করিডোর পাওয়ার বদলে তারা কেবল আমলাতান্ত্রিক জটেই আটকে থাকত এবং বিনা উদ্দেশ্যে ঘোরাঘুরি করত।
ডেডিকেটেড ফ্রেট পরিকাঠামো তৈরির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, অতীতে একই রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন এবং মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। এর ফলে মাল পরিবহণ ও যাত্রী পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেনের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হত। কিন্তু ডিএফসি চালু হওয়ার পর এই পুরনো ও মন্থর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যা ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গতিপথকে আরও তরান্বিত করছে। মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহেরু পোর্ট ট্রাস্ট (JNPT) থেকে ভোদোরা পর্যন্ত সম্প্রতি সফলভাবে চলাচলকারী ডাবল-স্ট্যাক কন্টেনার ট্রেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে, এই ট্রেনটি একটিমাত্র ট্রিপেই আড়াইশোরও বেশি লরির সমতুল্য পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া সমালোচকদের খোঁচা দিয়ে মজার ছলে এক ‘রাগী ফুফা’র রূপক ব্যবহার করে তিনি বুঝিয়েছেন যে, এই আধুনিক পরিকাঠামোর প্রভাবে কিছু মানুষের রাজনৈতিক ও স্বার্থবাদী হিসাব-নিকাশ কীভাবে ওলোটপালট হয়ে গেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক জমানার রেল পরিকাঠামোর তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোদী তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারগুলি কেবলমাত্র বার্ষিক বাজেটের প্রাক্কালে এক বা দুটি নতুন ট্রেনের ঘোষণা করেই বড়াই করত এবং ব্যাপক প্রচার চালাত। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে সারা বছর জুড়েই আধুনিক ট্রেনের শুভ সূচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, ২০১৪ সাল থেকে ভারত প্রায় ৫০,০০০ আধুনিক রেলওয়ে কোচ তৈরি করেছে, যেখানে আগের সরকার ১০ বছরে ৫০ হাজার শৌচাগার পর্যন্ত তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছিল।