পুজোর মুখে বাংলার সংস্কৃতি অবমাননার অভিযোগ! বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় বিস্ফোরক মামলা দায়ের

বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে খাস কলকাতায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ করা এবং বাঙালি সমাজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠল জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’-র বিরুদ্ধে। তাঁর মুখে ‘গন্দা গন্দা কুকিং’ এবং ‘পাখণ্ডি’-র মতো বিতর্কিত শব্দ শোনার পরই বাংলার মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে অবিলম্বে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তাঁকে গ্রেফতার করার জোরালো দাবি জানিয়ে কলকাতা পুলিশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত লিলুয়ায় আয়োজিত একটি হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে। সেখানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সরকারি আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বাঙালি সমাজ ও দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অন্যদিকে, একই দাবিতে মধ্য কলকাতার জেলা সভাপতি মানস সরকারও কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল ও সংশ্লিষ্ট থানায় ইমেল মারফত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিযোগ, বাংলার দুর্গাপুজো নিছক কোনো উৎসব নয়, এটি গোটা বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগ এবং ঐতিহ্য। সেই পবিত্র পরিসরে বাইরে থেকে এসে কেউ যদি নির্দেশমূলক বা অপমানজনক কথা বলেন, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ওই বক্তব্যে কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং ভাষা ও বাঙালি পরিচয়ের ক্ষেত্রেও এক ধরণের বিভাজনের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যা বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তিপ্রিয় পরিবেশকে নষ্ট করার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত হতে পারে। কংগ্রেস নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করে দেওয়ার একচেটিয়া অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি। বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বহুত্ববাদী সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করলে এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ লড়াই আরও তীব্র করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।