পুজো আসতেই ফের দুর্যোগের কালো মেঘ! ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলার আবহাওয়া নিয়ে বিরাট আপডেট

রাজ্যজুড়ে ফের দুর্যোগের কালো ছায়া। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত বর্ষা বিদায়ের বিন্দুমাত্র কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্টে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির তীব্র তাণ্ডব চলতে পারে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এই নতুন দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা শ্রীগঙ্গানগর, নারনৌল, মধ্য উত্তরপ্রদেশের নিম্নচাপ এলাকা, দেহরি, পুরুলিয়া এবং দীঘার ওপর দিয়ে বিস্তৃত হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বিহার ও সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দেড় কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই জোড়া ফলার জেরে আজ, ৮ সেপ্টেম্বর এবং আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যের আকাশ থাকবে মেঘাচ্ছন্ন এবং ঝেঁপে বৃষ্টি হবে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি:
আজ ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়ার কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস বহাল রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বা দুই জায়গায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি:
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও দুর্যোগের কমতি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা প্রবল। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষিত স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।