ঝুলনমেলার মাঝেই চরম আতঙ্ক! সার্কাসের তাঁবু থেকে প্রবীণ কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য

খনি অঞ্চল ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় আসানসোল মহকুমার উখড়ার ঐতিহ্যবাহী ঝুলনমেলা এবার ঘটা করেই শুরু হয়েছে। মেলায় বাহারি দোকানপাটের পাশাপাশি মনোরঞ্জনের জন্য বসেছে সার্কাসও। কিন্তু উৎসবের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে মঙ্গলবার সকালে সেই সার্কাসের তাঁবুর ভেতর থেকেই এক কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অণ্ডাল থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আধুনিকতার প্রভাবে বর্তমানে মৃতপ্রায় শিল্পে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সার্কাস। এই শিল্পকে কোনোভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এখনও যখন দেশের বেশকিছু সার্কাস কোম্পানি এবং শিল্পীরা দাঁতে-দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই এমন এক মর্মান্তিক অঘটন ঘটে গেল। সার্কাসের বিশাল তাঁবু তৈরির জন্য নকশা আঁকার কাজে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনিল কুমার ঠাকুর (৫৭) মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই এসে যোগ দিয়েছিলেন ‘অজন্তা সার্কাস’ নামক দলটিতে। সার্কাসের তাঁবু কীভাবে নিখুঁতভাবে বাঁধা হবে, তার নকশা আঁকায় অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ অনিলকে বিশেষ কাজের জন্যই নিয়োগ করেছিল অজন্তা সার্কাস কোম্পানি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে তাঁরই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এদিন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অণ্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ। মৃত অনিল কুমার ঠাকুর নদিয়া জেলার বেতাই গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

সার্কাস ম্যানেজার রথীন্দ্র কুমার চট্টোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে জানান, তাঁবু বাঁধা ও তৈরির নকশা আঁকার কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন অনিল। কিছুদিন আগেই তিনি সার্কাসে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে আচমকাই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পারিবারিক কোনো অশান্তি বা মানসিক চাপ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না, কারণ তিনি সার্কাসের একদম নবীন সদস্য ছিলেন। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট এলেই আসল রহস্য স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। তবে মানুষ হিসেবে এই কয়েকটা দিন তাঁকে যতটা দেখা গেছে, তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন বলেই দাবি ম্যানেজারের।

এদিকে এই ঘটনাটি আদতে কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে চরম রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।