পুজোর আগে রাজ্যবাসীর জন্য বিরাট সুখবর! প্যারা টিচার ও বন সহায়কদের বেতন বৃদ্ধিতে পকেট ভারী হচ্ছে কার কার?

উৎসবের মরশুম তথা দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য এক প্রকার বাম্পার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নেওয়া সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরের প্যারা টিচার বা শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের পাশাপাশি বন সহায়ক, ফরেস্ট গার্ড, ম্যানেজমেন্ট স্টাফ, স্পেশ্যাল এডুকেটর এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তের ফলে ঠিক কোন কোন ক্যাটেগরির কর্মীরা কতটা লাভবান হতে চলেছেন এবং কার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা অতিরিক্ত যোগ হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির প্যাকেজের আওতায় সবথেকে বেশি উপকৃত হতে চলেছেন স্কুল স্তরের প্যারা টিচাররা। এতদিন তাঁদের নির্দিষ্ট যে ভাতা বা পারিশ্রমিক মিলত, তাতে বর্তমান দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছিল। সরকারের নতুন নিয়মে তাঁদের মাসিক ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে তাঁরা এক প্রকার আর্থিক স্বস্তি পেতে চলেছেন। পাশাপাশি, বন দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মী যেমন বন সহায়ক, ফরেস্ট গার্ড এবং বিভিন্ন স্তরের ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের মাসিক মাইনে ও ভাতার কাঠামোতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হওয়া এই সমস্ত চুক্তিভিত্তিক ও মাঠের কর্মীদের আর্থিক স্থায়িত্ব দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ।
শুধু শিক্ষকমহল বা বনকর্মীই নন, এই আর্থিক সংশোধনের আওতায় আনা হয়েছে স্পেশ্যাল এডুকেটরদেরও। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাদানে যুক্ত এই পেশাদারদের ভাতা কাঠামো বহু দিন ধরেই পর্যালোচনার দাবি রাখছিল। এছাড়া রাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা অর্থাৎ প্রাক্তন বিধায়কদের বার্ধক্যজনিত বা স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে তাঁদের মেডিক্যাল ভাতার নতুন ও উন্নত নিয়মাবলী চালু করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্তের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের এই খেটে খাওয়া মানুষগুলি অত্যন্ত উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই বর্ধিত বেতন ও ভাতার সুবিধা আগামী ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হতে চলেছে। অর্থাৎ চলতি বছরের পুজোর আনন্দ দ্বিগুণ করে আগামী মাসের প্রথম দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই বাড়তি টাকা ঢুকতে শুরু করবে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও বড় আর্থিক ঘোষণায় খুশি সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরের কর্মীরা। উৎসবের ঠিক আগে আর্থিক ঝঞ্ঝাট কাটিয়ে রাজ্য সরকারের এই উপহার কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে, এখন সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।