মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সব শেষ! সত্য নিকেতনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অর্পিতের শেষ ইচ্ছে জানলে চোখে জল আসবে!

দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বহুতল ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মাত্র উনিশ বছরের এক উদীয়মান তরুণ। নিহত ওই যুবকের নাম অর্পিত জাজ। তিনি মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসের বাসিন্দা ছিলেন এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি কলেজের কমার্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি রাখি উৎসব উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে নিজের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর রবিবার সকালেই সমস্ত আনন্দকে পেছনে ফেলে তিনি পুনরায় দিল্লিতে ফিরে আসেন। কিন্তু কে জানত যে এই ফেরাটাই তাঁর জীবনের শেষ ফেরা হবে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক নিমেষে সব শেষ হয়ে যাবে!
মায়ের মন তো সবসময়ই একটু বেশি চিন্তিত থাকে। দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে অর্পিতের মা তাঁকে আরও কিছুদিন বাড়িতে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই আবেদন রক্ষা হয়নি। রাজধানীতে পা রাখার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সত্য নিকেতনের সেই কুখ্যাত দুর্ঘটনা ঘটে যায়, যেখানে একটি বেহাল বহুতল ভবন আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। ভবনটির নিচের তলায় ছাত্রাবাস বা পিজি (PG) ছিল, যেখানে মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়িং গেস্ট হিসেবে বসবাস করতেন। ভবনটির নিচতলায় সংস্কার বা মেরামতির কাজ চলাকালীনই এই ধস নামে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের তৎপরতা এবং উদ্ধারকারীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একে একে হতাহতদের উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে মোট সাতজনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম এক বলি হলেন এই ১৯ বছরের তরুণ অর্পিত।
একমাত্র সন্তানকে হারানোর এই ব্রেকিং নিউজে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ছেলের মৃতদেহ চোখের সামনে আসার পরই শোকে পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাঁর মা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এইমস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটা তরতাজা প্রাণের এহেন আকস্মিক প্রয়াণে এবং ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চোখের পলকে ধুলোয় মিশে যাওয়ায় পরিবার এখন চরম অসহায়তার শিকার। তবে এই চরম অসহনীয় এবং বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মধ্যেও অর্পিতের পরিবার এক অত্যন্ত মহৎ ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাঁরা মৃত অর্পিতের কর্নিয়া বা চোখ দান করার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের বুকের ধন আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না, কিন্তু অর্পিতের এই চোখ দিয়েই হয়তো পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেন অন্য কোনো দৃষ্টিহীন মানুষ। প্রিয় সন্তানের অকালমৃত্যুর এই অন্ধকারের মাঝেও তাঁরা অন্য কোনো পরিবারে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে চান।