কোনো অনুমোদন ছিল না! ছাত্রমৃত্যুর পর রাজস্থান থেকে গ্রেফতার বেআইনি মেসবাড়ির মালিক

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বেআইনি এবং জরাজীর্ণ পাঁচতলা পেয়িং গেস্ট (PG) মেসবাড়ি আচমকাই ভেঙে পড়ার ঘটনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। রবিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ছাত্র ও শ্রমিকসহ মোট সাতজনের প্রাণহানি ঘটে এবং বহু মানুষ গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা অভিযুক্ত বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলকে সোমবার রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ দশক পুরনো ওই ভবনটি আদতে একটি অবহেলিত আবাসিক বাড়ি ছিল। বাণিজ্যিক অনুমোদন বা পৌরসভার বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই সেখানে মেস চালানো হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আবাসন সংকটের সুযোগ নিয়ে আর্থিক মুনাফা লুটতে নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই বাড়িটির অবৈধ সম্প্রসারণ ও মেরামতির কাজ চলছিল। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই নির্মাণকাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ না করেই ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পুরুষদের এই পিজি আবাসনটি চালু করা হয়েছিল। প্রায় ৩০টি ঘরে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের রাখা হতো। দুর্ঘটনার দিন দুপুরবেলাতেও ভবনের বেসমেন্টে চরম ঝুঁকির মধ্যে শ্রমিকেরা নির্মাণকাজ চালাচ্ছিলেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

রবিবারের এই বিপর্যয়ের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত হরিরাম বনসল। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে তাঁকে রাজস্থান থেকে পাকড়াও করে। এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ইতিমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে, যেখানে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সমগ্র ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha