‘দায় এড়াতে পারে না কেউ!’ দিল্লির বহুতল ধসে ৭ জনের মৃত্যুতে হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে প্রশাসন

দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভেঙে পড়ে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা। রবিবার দুপুরে সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে পুরোনো একটি বহুতল ভেঙে পড়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা অভিযুক্ত বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, সোমবার এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কঠোর ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার ও পুরনিগম (MCD)।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ যখন দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় ওই বহুতলে মেরামতির কাজ চলছিল। বাড়িটি মূলত ছেলেদের পেইং গেস্ট (PG) বা মেস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হঠাৎ বাড়িটি ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু পড়ুয়া। খবর পেয়ে এনডিআরএফ, দিল্লি পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দল দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। সোমবার রাত পর্যন্ত চলা এই উদ্ধার অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতরা এইমসের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার এই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র, দিল্লি সরকার, এমসিডি এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে কড়া ভাষায় তলব করেছে। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, একটি রাজধানীতে এমন বিপর্যয় কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজধানীর বিভিন্ন পিজি বা মেসে কত জন শিক্ষার্থী থাকেন এবং তাঁদের জীবন ও সুরক্ষার জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চেয়ে আলাদাভাবে নোটিস জারি করা হয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট স্তরের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে মেরামতির কাজের সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।