“লোনের ইএমআই-এর মতো কিস্তিতে ঘুষ নেওয়া হয়েছে!” বিধানসভায় ডিএমকে-কে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়!

তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশনকক্ষে সোমবার রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছাল। বিগত ডিএমকে সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। ইডি (ED)-র সাম্প্রতিক নথি এবং ঐতিহাসিক সরকারিয়া কমিশনের তথ্য তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন যে, ডিএমকে জমানায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঋণের ‘ইএমআই’ (EMI)-এর মতো কিস্তিতে ঘুষ আদায় করা হতো এবং ‘পার্টি ফান্ড’-এর আড়ালে চলেছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বিধানসভায় প্রবল শোরগোল শুরু হয় এবং ডিএমকে বিধায়করা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দল ডিএমকে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে তাঁদের শাসনকালের দুর্নীতির ফাইল খুলে দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে গিয়ে বিধানসভায় ইডি-র একটি সাম্প্রতিক নথির উল্লেখ করেন বিজয়। তিনি জানান, সরকারি কাজের দরপত্রের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোট মূল্যের সাড়ে সাত থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কাটমানি বা ঘুষ হিসেবে নেওয়া হতো। ব্যাংকের ঋণের কিস্তি যেমন প্রতি মাসে শোধ করতে হয়, ঠিক সেইভাবেই কিস্তিতে কিস্তিতে এই কাটমানির টাকা তোলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। নথির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ‘পার্টি ফান্ড’-এর সরাসরি সুবিধাভোগী হিসেবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিনের নাম উল্লেখ করেছে।
অতীতেও দুর্নীতির ইতিহাস! শুধুমাত্র সাম্প্রতিক তদন্তই নয়, ডিএমকে-র অতীতের দুর্নীতির হিসাব মেলাতে ১৯৭০-এর দশকের সরকারিয়া কমিশনের বীরানম পানীয় জল প্রকল্পের রিপোর্টও টেনে আনেন বিজয়। সেই সময় পাইপ সরবরাহের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির এক আত্মীয়ের ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এছাড়া ‘তাসমাক’ (TASMAC) মদের ব্যবসা এবং সিন্ডিকেটের যোগসাজশ নিয়ে এটিকে ডিএমকে জমানার ‘বিজ্ঞানসম্মত দুর্নীতি’ বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজয়ের এই আক্রমণ শুরু হতেই বিধানসভায় হট্টগোল চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। বিরোধী ডিএমকে বিধায়করা স্পিকারের আসনের সামনে এসে কাগজ উড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান। তবে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এগুলো তাঁর কোনো মনগড়া অভিযোগ নয়, বরং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও কমিশনের নথিতে যা উঠে এসেছে তিনি সেটাই আইনসভার সামনে পাঠ করছেন। দুর্নীতির এই নথি প্রকাশ্যে আসায় দক্ষিণের রাজনীতিতে শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের সংঘাত এখন নতুন মোড় নিয়েছে।