পুজোর আগে বাম্পার গিফট! পার্শ্বশিক্ষক থেকে বনকর্মী—কাদের বেতন বাড়ল একধাক্কায়? জানুন বড় ঘোষণা

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে একগুচ্ছ জনমুখী এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মী, শিক্ষক এবং বিধায়কদের জন্য ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির কথা জানান। এর ফলে শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে বনকর্মীদের অন্দরে খুশির জোয়ার বইছে।
এদিনকার বৈঠকে সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি এসেছে শিক্ষা ও বন দফতরকে ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা শিক্ষা দফতরের প্রায় ১৪টি গ্রুপকে এবার ক্যাবিনেট বিশেষ সহানুভূতি দেখিয়েছে। এর জন্য সরকারের বার্ষিক প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের ২০ হাজার ৩৪৩ জন পার্শ্বশিক্ষকের মাসিক বেতন ১১ হাজার ৯৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৯৪১ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ প্রাথমিকের ২১ হাজার ৮৪৯ জন পার্শ্বশিক্ষকের বেতনও ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০ হাজার ৫২০ টাকার বেশি। শিক্ষাবন্ধু ও স্পেশাল এডুকেটরদের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাশাপাশি, শিক্ষা দফতরের ম্যানেজমেন্ট স্টাফ, এসএসকে-র সহায়ক, এমএসকে-র সম্প্রসারিকা এবং অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের ভাতাও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সমস্ত সিদ্ধান্ত আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রের পাশাপাশি বন দফতরের কর্মীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার, হেড ফরেস্ট গার্ড এবং বনরক্ষীদের ভাতা একধাক্কায় ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। রাজ্যের দেড় হাজার বন সহায়কের পারিশ্রমিকও ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।
আর্থিক বৃদ্ধির এই তালিকার বাইরেও বিধায়কদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে চালু হওয়া সেবা কেন্দ্রগুলি পরিচালনার জন্য বিধায়কদের ৩০ হাজার টাকা করে মাসিক অনুদান দেওয়া হবে।
শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের সহজে পারস্পরিক বদলির পথ সুগম করতে আনা হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল ২০২৬’। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে এই বিল পেশ ও অনুমোদিত হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। পুজো শুরুর আগেই সরকারের এই জোড়া পদক্ষেপে বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।