রাজ্যে বাতিল হতে চলেছে ১ কোটিরও বেশি রেশন কার্ড! আপনার কার্ডটি নিরাপদ তো? জেনে নিন সরকারের বিরাট সিদ্ধান্ত!

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভুয়ো ও অবৈধ রেশন কার্ড বাতিলের কাজে এবার বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, জাল আধার সংযোগ, মৃত বা অস্তিত্বহীন গ্রাহক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সম্পূর্ণভাবে রেশন ব্যবস্থার বাইরে রাখতে খাদ্য ও সরবরাহ দফতর রাজ্যের প্রতিটি জেলাভিত্তিক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে এই ধরনের ভুয়ো কার্ডের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি হওয়ায় সেখানে নজরদারি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও অনেক বেশি কড়া করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে আধার এবং পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা পিডিএসের (PDS) তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে বর্তমানে ভুয়ো ও সন্দেহজনক রেশন কার্ড শনাক্ত করার কাজ চলছে। মৃত, অন্যত্র চিরতরে স্থানান্তরিত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামে নিয়মিত রেশন বরাদ্দ হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোটা রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি সন্দেহজনক ও ভুয়ো রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় বা বাতিলের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকেই সর্বাধিক ভুয়ো কার্ডের সন্ধান মিলেছে। শুধু উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়া—এই তিন জেলা মিলিয়ে বাতিল ও নিষ্ক্রিয় কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাসের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেআইনিভাবে রেশন কার্ড তৈরি করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের সমস্ত অনিয়ম কঠোরভাবে রুখতে ফেয়ার প্রাইস শপগুলির ই-পস (e-PoS) মেশিনে বায়োমেট্রিক ও আধারভিত্তিক প্রমাণীকরণ সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব কার্ডে এখনও পর্যন্ত সঠিক নথিপত্র বা আধার সংযোগ সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলিও চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানান, প্রকৃত ও দরিদ্র উপভোক্তাদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী যাতে কোনওভাবেই অন্য কারও অসৎ হাতে না পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসআইআর প্রক্রিয়ায় উঠে আসা সমস্ত অসংগতি পর্যালোচনা করে ভুয়ো কার্ড বাতিলের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনও অবৈধ বা অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা না পান, তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ভারতীয় ও যোগ্য নাগরিকরা যাতে খাদ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে একদিকে যেমন খাদ্য ভর্তুকি বাবদ বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে তেমনই প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলি আরও সুষম বণ্টনের সুবিধা পাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।