গ্রামের ঠিক মাঝেই মৃত্যুর তার! লাতেহারে হাতির করুণ মৃত্যুর ঘটনায় কাঠগড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ

ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার বালুমাথ থানা এলাকার কোমার গ্রামে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে একটি বুনো হাতির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বুনো হাতিটির মৃত্যুর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন বিভাগের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই লাতেহার জেলার বালুমাথ এলাকার কোমার গ্রাম ও তার আশেপাশের জঙ্গলসংলগ্ন অঞ্চলে বুনো হাতির পালের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছিল। হাতিগুলির ভয়ে সারাক্ষণ তটস্থ থাকতেন সাধারণ গ্রামবাসী। বুনো হাতির পালটি গভীর রাতে প্রায়শই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও কৃষিজমি বা ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করত। ঘটনার দিন রাতেও প্রায় ১৫টি বুনো হাতির একটি বিশাল দল খাবারের খোঁজে হঠাৎ করেই গ্রামে ঢুকে পড়ে। বন বিভাগের ট্র্যাকার পাপ্পু মাহাতো জানিয়েছেন যে, তাঁরা রাত দুটো পর্যন্ত ওই হাতিগুলোর পিছু ধাওয়া করে তাদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কিছু সময় বাদে হাতির পালটি আচমকাই আবার ফিরে আসে এবং এক স্থানীয় গ্রামবাসীর ভুট্টার খেতের দিকে এগিয়ে যায়। সেই খেতের ঠিক মাঝখানেই অবৈধভাবে বা অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তার বসানো ছিল। সেই জিভে জল আনা ফসলের লোভে খেতের কাছে যেতেই একটি হাতি সরাসরি ঝুলন্ত বা উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মারা যায়।

ট্র্যাকার পাপ্পু মাহাতো আরও যোগ করেন যে, সেই মুহূর্তে যদি তাঁরা হাতিগুলোকে আটকাতে বা আরও কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতেন, তবে তারাও মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে পারতেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা মৃত হাতিটিকে দেখতে ভিড় জমান। বন কমিটির চেয়ারম্যান সুনীল ওরাওঁ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও কৃষকেরা বা স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি মাঠে বিপজ্জনক ও খোলা বৈদ্যুতিক তার বা খুঁটি বসিয়ে রেখেছেন। আর সেই গাফিলতির কারণেই আজকের এই বন্যপ্রাণীর মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটল।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই লাতেহারের ডিএফও (DFO) প্রবিষ্ট আগরওয়াল নড়েচড়ে বসেছেন। তিনি জানান যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার নন্দ কুমার মেহতা জানিয়েছেন যে, বন বিভাগের একটি তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃত হাতিটির নিয়মানুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে আসার পরেই হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।