বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি! জেলের বন্দি ভাইকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে খুন বৌদি!

সামান্য পারিবারিক অশান্তির জেরে এক নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহর। রাখিবন্ধনের পবিত্র উৎসবের দিন ভাইকে নিয়ে বৌদির করা একটি আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বিবাদ চরমে ওঠে, যার পরিণতি হিসেবে শেষমেশ ননদের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হলো বৌদিকে। শুধু তাই নয়, পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে যে খুনের পর প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে মৃতার দেহটি টেনে নিয়ে গিয়ে একটি জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত মহিলা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধৃত অভিযুক্ত মহিলার নাম পার্বতী বাই কুশওয়াহ। ঘটনার দিন পারিবারিক অশান্তির উত্তেজনার মুহূর্তে পার্বতী ছুরি নিয়ে বন্দনা নামক এক মহিলার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। সম্পর্কে বন্দনা ওই অভিযুক্ত মহিলার বৌদি হতেন। এই নৃশংস হামলার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত পার্বতীকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের কড়া আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গত ১১ আগস্ট একটি মন্দিরে উপেন্দ্রর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বন্দনা। কিন্তু এই বিয়েটিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় পরবর্তীতে ওই দম্পতি আলাদাভাবে একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মূলত রাখিবন্ধনের দিন। অভিযোগ উঠেছে, সেই পবিত্র দিনে পার্বতীর ভাইকে নিয়ে একটি কটূক্তি করেন বন্দনা। পার্বতীর ভাই বর্তমানে একটি ধর্ষণ মামলায় দমোহের জেলে বন্দি রয়েছেন। ভাইকে নিয়ে বৌদির করা এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি পার্বতী। এর জেরে তাঁদের দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বচসা শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তা হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। অভিযোগ উঠেছে, চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে পার্বতী একটি ধারালো ছুরি দিয়ে বন্দনার ঘাড়ে পরপর দু’বার উপুর্যুপুরি আঘাত করেন। এর ফলে ঘটনাস্থলেই ওই তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধের সমস্ত প্রমাণ লোপাট করতে এবং পুলিশ সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ননদ বন্দনার মৃতদেহটি টেনে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি জলের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে ফেলে আসেন। এই ভয়াবহ ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো আতঙ্কিত ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।