কচ্ছপের আকারের পাথরে অলৌকিক রূপ! বীরভূমের বিখ্যাত সতীপীঠে না গেলে বড় মিস করবেন

বীরভূম জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে নানা অজানা তথ্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, প্রাচীন রাজবাড়ি, জমিদার বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণের শহর শান্তিনিকেতন। এর পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ৫১টি সতীপীঠের মধ্যে পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীপীঠের অবস্থান এই বীরভূমেই। যার মধ্যে রয়েছে কংকালীতলা, নলহাটির নলাটেশ্বরী, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী, লাভপুরের ফুল্লরা এবং বক্রেশ্বর। প্রাচীনত্বের এই অমূল্য ভান্ডারের সন্ধানে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকের ভিড় জমে এই জেলায়।

এই প্রাচীন সতীপীঠগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাঁইথিয়ার দেবী নন্দীকেশ্বরী মন্দির। ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক তথ্য ঘাটলে জানা যায়, দেবীর পবিত্র নামানুসারেই এককালে এই শহরের নাম রাখা হয়েছিল ‘নন্দীপুর’, যা বর্তমান সময়ে সাঁইথিয়া নামে পরিচিত। বীরভূম জেলার অন্যতম প্রধান এই পর্যটন কেন্দ্রটি ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মন্দিরটি আনুমানিক ১৯১৩ সালে নির্মিত হয়েছিল। এই মন্দিরের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে দেবীর সরাসরি কোনো মূর্তি নেই, বরং একটি কচ্ছপের আকারের পাথরের ওপর দেবী নন্দীকেশ্বরী অধিষ্ঠিত রয়েছেন। ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, মহাদেবের বাহন স্বয়ং নন্দী এখানে দেবীর পুজো করতেন বলেই এই জায়গার এমন নামকরণ হয়েছে।

যাতায়াতের সুব্যবস্থার কারণে এই মন্দিরে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। সাঁইথিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ঢিলছড়া দূরত্বে, শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলেই এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা তথা শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন থেকে যেকোনো ট্রেনে সহজেই সাঁইথিয়া স্টেশনে পৌঁছানো যায়। স্টেশন চত্বরে নেমে ওভারব্রিজ পার হয়ে মাত্র দুই মিনিট হাঁটাপথেই এই মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া আপনি যদি বীরভূমের অন্য কোনো দর্শনীয় স্থান যেমন তারাপীঠ ভ্রমণে আসেন, তবে সেখান থেকেও খুব সহজেই গাড়ি ভাড়া করে নন্দীকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছে যেতে পারবেন। রাজ্যজুড়ে বাস এবং ট্রেনের সরাসরি যোগাযোগ থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি একটি আদর্শ ছুটির গন্তব্য।