হু হু করে বাড়ছে মহার্ঘ ভাতা! নতুন বছরের শুরুতেই কি ৬৬ শতাংশ ছাড়াবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ?

অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও, তার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য একটি অত্যন্ত খুশির খবর সামনে এসেছে। নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসেই তাঁদের মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR)-এর পরিমাণে আরও একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স বা AICPI-IW-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এবং সপ্তম বেতন কমিশনের প্রচলিত ফর্মুলা অনুযায়ী এই সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে উঠে আসছে।
শিল্প শ্রমিকদের জন্য প্রকাশিত সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক বা AICPI-IW-এর সর্বশেষ তথ্য এবং সপ্তম বেতন কমিশনের বিদ্যমান নিয়ম মেনেই এই হিসাব কষা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মূল বেতনের নিরিখে একলাফে প্রায় ৬৬ থেকে ৬৭ শতাংশের কোঠায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এটি পুরোপুরি একটি সম্ভাব্য হিসাব ও অনুমান মাত্র। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের ডিএ-র হার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কিংবা এই গণনায় ব্যবহৃত ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের চূড়ান্ত অনুমোদনও বাকি রয়েছে। তবুও আগামী কয়েক মাসে ডিএ-র পরিসংখ্যানে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা আঁচ করার জন্য এই ট্রেন্ডটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ডিএ বৃদ্ধির পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে AICPI-IW-এর মাসিক সূচকের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের সংশোধিত ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সংগৃহীত প্রকৃত তথ্যগুলোকেই আমলে নেওয়া হবে। সপ্তম বেতন কমিশনের নির্ধারিত মূল ফর্মুলা অনুযায়ী, গত ১২ মাসের গড় সূচক এবং বর্তমান ডিএ-র হার মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, চলতি বছরের শুরু থেকেই সূচকের গ্রাফ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যদি বছরের বাকি মাসগুলোতেও এই সূচক একই রকম স্থিতিশীল বা উর্ধ্বমুখী থাকে, তবে ১২ মাসের আনুমানিক গড় সূচক ১৫১.৫ এর কাছাকাছি গিয়ে ঠেকবে।
সপ্তম পে কমিশনের গাণিতিক সূত্র প্রয়োগ করে দেখা যাচ্ছে যে, এই ১৫১.৫ গড় সূচক থেকে প্রায় ৬৬.৯১ শতাংশ ডিএ পাওনা হতে পারে। বর্তমান ডিএ-র হার যদি ৬৩ শতাংশ ধরে নেওয়া হয়, তবে এটি সরাসরি প্রায় ৩.৯১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিশেষে সরকারের রাউন্ডিং-অফ বা পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তর পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনে ডিএ-র এই হার সুনির্দিষ্টভাবে ৬৬ শতাংশ কিংবা ৬৭ শতাংশে নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানের এই নিয়মিত ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি অষ্টম বেতন কমিশনের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি কর্মীদের মাসিক বেতনের ওপর সরাসরি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।