সরকারি কর্মচারীদের জন্য দিওয়ালির আগেই বিরাট উপহার! বকেয়া ডিএ এবং বেতন কমিশন নিয়ে বড় ঘোষণা!

সরকারি কর্মচারীদের জন্য একাধিক ঐতিহাসিক ও বড় ঘোষণা করল সরকার। দ্বাদশ বেতন পুনর্বিবেচনা কমিশন (PRC) গঠন এবং বকেয়া দুই কিস্তির মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে বকেয়া ডিএ-র দুই কিস্তি মিটিয়ে দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মচারীদের বিভিন্ন দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই বিরাট সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া ডিএ-র দুই কিস্তি যথাক্রমে ১ জুলাই, ২০২৪ এবং ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই বকেয়া অর্থ আগামী ১ অক্টোবর থেকে সরাসরি কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠন করা হবে দ্বাদশ বেতন পুনর্বিবেচনা কমিশন (PRC)। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২২ সালের সারেন্ডার লিভের পাওনা টাকা আসন্ন উৎসবের আগেই সমস্ত কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, পুলিশকর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা আসন্ন দশেরা উৎসবের সময় অতিরিক্ত আরও একটি সারেন্ডার লিভের আর্থিক সুবিধা পাবেন।

রাজ্য সরকারের এই বিশাল প্যাকেজের আওতায় বাদ পড়েননি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও। পেনশনভোগীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অতিরিক্ত পেনশন কার্যকর করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সি প্রবীণ পেনশনভোগীরা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সিরা অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত পেনশন লাভ করবেন।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ‘এমপ্লয়িজ হেলথ স্কিম’ (EHS) আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকার নিয়মিতভাবে ‘এনটিআর বৈ্য্য সেবা ট্রাস্ট’-কে মাসিক অর্থ প্রদান করবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর ঘোষিত এই সমস্ত কল্যাণকর সিদ্ধান্তগুলি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের রাজকোষে বছরে প্রায় ২,৮৮০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে।

অন্যদিকে, রাজ্যের অন্যান্য নিয়মিত কর্মচারী, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মী এবং গ্রাম ও ওয়ার্ড সচিবালয়ের কর্মীদের বাকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি পরবর্তী সুচিন্তিত আলোচনার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভার উপ-কমিটি ও উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই একঝাঁক জনমুখী ও কর্মচারী-বান্ধব ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে।