নবরাত্রিতে কি মুসলিমদের নো-এন্ট্রি? গরবা-ডান্ডিয়া ঘিরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বড় ঘোষণা!

আসন্ন নবরাত্রি উৎসবকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সহযোগী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) রাজ্যের সমস্ত গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টানা দশ দিন ধরে চলা এই হিন্দু উৎসবে কড়া নিয়মকানুন প্রয়োগের ঘোষণা করেছে ডানপন্থী এই সংগঠনটি। একই সঙ্গে আয়োজকদের জন্য কী করা উচিত এবং কী বর্জন করা উচিত, তার একটি নির্দেশিকা বা তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ভিএইচপির জাতীয় মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব শ্রীরাজ নায়ার এই নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা নবরাত্রি উদযাপনের সময় গরবা ও ডান্ডিয়া নৃত্যে মুসলিমদের অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংগঠনের দাবি, এই উৎসব স্রেফ গান বা নাচের কোনো সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, এটি দেবী দুর্গার আরাধনা ও পবিত্র পুজো। তাদের যুক্তি, যে মুসলমানরা মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করেন না এবং এর বিরোধিতা করেন, তারা কেন এই সনাতন উৎসবে অংশ নেবেন? তবে এই নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ভিএইচপির পক্ষ থেকে এও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে তারা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করছে। বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো হিন্দু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের গরবা প্যান্ডেলগুলিতে প্রবেশের আগে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে আধার কার্ড দেখিয়ে নিজের হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে এবং কপালে তিলক ধারণ করতে হবে। ভিএইচপি নেতৃত্বের দাবি, ধর্মান্তর-বিরোধী এবং গো-হত্যা-বিরোধী তাদের মূল রাজনৈতিক ও সামাজিক এজেন্ডায় তারা কোনোভাবেই আপোস করবে না। তাদের মতে, উৎসবগুলো হিন্দু সংস্কৃতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যাকে কোনোভাবেই দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না। যদিও এই বিধিনিষেধগুলোকে তারা নিছক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগেই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি “সকলের মধ্যে একই সত্তা” বিরাজ করার কথা বলে মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে। এমনকি তিনি এও স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, কোনো হিন্দু যদি মনে করেন যে ভারতে কোনো মুসলমানের থাকা উচিত নয়, তবে সেই ব্যক্তি আর যাই হোক প্রকৃত হিন্দু থাকতে পারেন না। একদিকে আরএসএস প্রধানের এই অন্তর্ভুক্তি ও সহাবস্থানের বার্তা এবং অন্যদিকে ভিএইচপির এই ক