শুটারদের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি! জার্মানিতে বাংলার কান্ডে কেঁপে উঠল ভারতীয় শুটিং মহল

ভারতীয় শুটিং জগতের অন্দরে এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন মহিলা দলের এক কোচের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত কোচকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা গোটা ক্রীড়ামহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি চলতি বছরের জুন মাসের। সেই সময় জার্মানির সুহল শহরে আয়োজিত জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ভারতীয় মহিলা শুটিং দলের সঙ্গে জার্মানিতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত কোচ। জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতার ভেন্যু অর্থাৎ সুহল শহরের শুটিং রেঞ্জটি ফ্রিডবার্গ পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গলের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই কোচ প্রশিক্ষণরত মহিলা শুটারদের বিভিন্ন অজুহাতে সেই জঙ্গলের কাছাকাছি ঘুরতে নিয়ে যেতেন এবং তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনুপযুক্ত স্পর্শ করতেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কোচ নিজের অপরাধ ঢাকতে উল্টে ওই ভুক্তভোগী শুটারদের কেরিয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি জোরপূর্বক অভিযোগ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি, এক নির্যাতিতা শুটারের বাবা-মা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করলেও সেই সময় কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
ন্যাশনাল রাইফেলস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই)-এর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্ত কোচ ভারতের স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এসএআই)-এর অধীনে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে এই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি এই সপ্তাহে ওই কোচ এনআরএআই-এর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির (ICC) সামনে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য ও সাফাই পেশ করেন।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তদন্ত কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন এসএআই কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। সেই রিপোর্টের কঠোর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই দিল্লির তুঘলকাবাদের ড. কার্নি সিং শুটিং রেঞ্জ থেকে অভিযুক্ত কোচকে তৎক্ষণাৎ অপসারণ করা হয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে সুরক্ষা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে এই কঠোর পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।