নিউ ফরাক্কায় রেললাইন সংস্কার শেষ! আজ থেকেই কি ফের স্বাভাবিক হবে ট্রেন চলাচল?

নিউ ফরাক্কা স্টেশনে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধকালীন লাইন মেরামতির কাজ অবশেষে শেষ হয়েছে। শুরু হয়ে গিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ট্রায়াল রান। এর মাঝেই পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিপিআরও) শিবরাম মাঝি জানিয়ে দিয়েছেন যে, শনিবার থেকেই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে চলেছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনেই আজ দুপুর ২টো ২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়বে শতাব্দী এক্সপ্রেস।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনরাত এক করে ট্র্যাক মেরামতের কাজ চালানো হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টি নামায় মাটি ধসে পড়ে, যার ফলে কাজে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। তবুও রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের লক্ষ্য ছিল শনিবারের মধ্যেই সমস্ত পরিষেবা স্বাভাবিক করার। সিপিআরও শিবরাম মাঝি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ একদম ঠিক পথে এগোচ্ছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিকেল চারটের মধ্যে সম্পূর্ণ ফিট ঘোষণা করা হবে। আজ নতুন করে আর কোনও ট্রেন বাতিল করা হচ্ছে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভগবান আমাদের বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। পেট্রোল নজরদারির সময় ট্রাকের খারাপ অবস্থা ধরা পড়েছিল এবং সেই সময় সমস্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। টানা দু’রাত ধরে অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ হয়েছে। এখন শুধু ইলেকট্রিক টেস্ট বাকি আছে, তা শেষ হলেই আজ থেকে নিয়মিত ট্রেন সার্ভিস পুরোপুরি শুরু হয়ে যাবে।’’

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে ফরাক্কায় রেললাইনে ধস নামার জেরে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী সমস্ত ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল। হঠাৎ ট্রেন বাতিল হয়ে যাওয়ায় বহু যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েন। অনেকেই আগে থেকেই জরুরি কাজ কিংবা পুজোর ছুটির মুখে ঘুরতে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে রেখেছিলেন। ট্রেন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে সড়কপথ।

আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে বেসরকারি বাসগুলি। যাত্রীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি বুঝে ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে বাস মালিকরা। শিলিগুড়িগামী বিভিন্ন বেসরকারি ভলভোর টিকিটের দাম সাধারণ সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার খবরে বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি পেলেও অতিরিক্ত বাসভাড়ার জেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্ত রুটেই ট্রেন চলাচল আগের ছন্দে ফিরে আসবে।