“বদলে গেল পৃথিবীর মানচিত্র!”-৫৬৯ বছরের কোন পুরনো নিয়মে কোপ বসাল রাষ্ট্রপুঞ্জ?

বিশ্বের মানচিত্র নিয়ে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ বা জেনারেল অ্যাসেম্বলি। এতদিন ধরে প্রচলিত মার্কেটর ওয়ার্ল্ড ম্যাপের পরিবর্তে নতুন একটি ম্যাপ ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। নতুন এই ম্যাপে বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন আরও নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে, যেখানে আফ্রিকাকে তার আসল আকারে অনেক বড় এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে তুলনায় ছোট দেখানো হয়েছে।
টোগোর নেতৃত্বে আনা এই প্রস্তাবটি আফ্রিকান ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থনে ১৬৪-১ ভোটে পাস হয়েছে। ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল ছয়টি দেশ। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের মতে, ১৬ শতকের একটি মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক না করে রাষ্ট্রপুঞ্জের উচিত বর্তমান বিশ্বের প্রকৃত সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়া। অন্যদিকে, এই ভোটকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে ব্যাপক উল্লাস প্রকাশ করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন।
কেন এই পরিবর্তন?
১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ কার্টোগ্রাফার জেরার্ডাস মার্কেটর সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের সুবিধার জন্য মার্কেটর প্রোজেকশন তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল কাগজে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে আকার ও আয়তনে বড় ধরনের বিকৃতি ঘটে। নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, স্থলভাগ তত বেশি বড় দেখায়।
এর ফলে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলি আকারে অনেক বড় প্রতিপন্ন হয়। যেমন—মার্কেটর ম্যাপে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার প্রায় সমান আকারের দেখানো হলেও, বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় চোদ্দো গুণ বড়। এর জেরে স্কুল ও অফিসের পাঠ্যবইয়ে বিশ্বের মহাদেশগুলির আপেক্ষিক আকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছিল।
কী রয়েছে নতুন ম্যাপে?
রাষ্ট্রপুঞ্জের গৃহীত এই প্রস্তাবে মূলত ২০১৮ সালে তৈরি ইক্যুয়াল আর্থ প্রোজেকশন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এটি একটি ইক্যুয়াল এরিয়া প্রোজেকশন, যার মাধ্যমে দেশ ও মহাদেশগুলির প্রকৃত আয়তন বাস্তবের অনুপাতে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই ম্যাপে আফ্রিকা বিশাল আকৃতিতে ধরা দেয় এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট দেখায়। লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার আকৃতিও এক্ষেত্রে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
টোগো ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই তারা নিজেদের দেশের স্কুলের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে পুরনো মার্কেটর প্রোজেকশনের পরিবর্তে এই নতুন ইক্যুয়াল আর্থ ম্যাপ কার্যকর করবে।