১০ দিন ধরে টানেলে বন্দি! মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিক উপায়ে ফিরে এলেন দুই নেপালি কর্মী

নেপালের ভोटेকোशी নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার প্রায় দশ দিন পর এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে অলৌকিক উপায়ে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ দশ দিন ধরে ভূগর্ভস্থ অন্ধকার টানেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখলেন তারা। উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন কबीर महार्जन (বয়স ৪৫ বছর) এবং संजय साह (বয়স ৩০ বছর)। নেপাল সেনার জনসংযোগ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেহার্জন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে একজন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সাহ ফোরম্যান পদে কর্মরত ছিলেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিब्बत সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ তুষারধস এবং পাথরের ধসের কারণে ভोटेকোशी নদীতে এই হঠাৎ প্রলয়ঙ্কারী বন্যা দেখা দেয়। এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় উত্তর ও মধ্য নেপালের একাধিক শহর এবং গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিতওয়ান থেকে ৩৫৯টি, পূর্ব নভলপুরাসি থেকে ২১৮টি, পশ্চিম নভলপুরাসি থেকে ২০৮টি, নুয়াকোট থেকে ১৮৫টি, গোর্খা থেকে ৭২টি, ধাদিং থেকে ৬০টি, রসুওয়া থেকে ১৪০টি এবং তনহুঁ থেকে ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কাঠমান্ডুর দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই রোগীর মৃত্যুর ফলে শুক্রবার এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮২ জনে।
এত বড় একটি বিপর্যয়ের পরেও নেপাল সেনার অদম্য নেতৃত্ব এবং বিশেষ সুরক্ষা কমান্ডের নিরলস প্রচেষ্টায় এই উদ্ধারকাজ সফল হয়েছে। সর্বাধুনিক বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী। প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা টানেলের গভীর থেকে অদ্ভুত আওয়াজ বা চিৎকার শুনতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা নড়েচড়ে বসেন এবং টানেলে আটকে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সফল হন। ওই আওয়াজ শোনার পরই নেপাল আর্মি এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধার অভিযান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অবশেষ দীর্ঘ ১০ দিন পর তাদের এই সম্মিলিত ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টার ফলেই দুই কর্মীকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। এই অবিশ্বাস্য উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ দেশটিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং উদ্ধারকারী দলের ভূয়সী প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ।