বিনা পেঁয়াজ-রসুনেই ফিদা গোটা শহর! আরা-র বিখ্যাত ‘গোপীজির সমোসা’-র ৫০ বছরের ইতিহাস জানেন?

আরার গোপালি চকে গত ৫০ বছর ধরে নিজের বিশেষ স্বাদের জাদুতে মানুষের মন জয় করে চলেছে একটি ছোট স্টল, যা ‘গোপীজির সমোসা’ নামে সুপরিচিত। অর্ধশতাব্দী ধরে এই দোকানের সমোসার স্বাদ খাদ্যরসিকদের চুম্বকের মতো টেনে আনছে। এখানকার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এই সমোসা তৈরিতে বিন্দুমাত্র রসুন বা পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয় না। তা সত্ত্বেও এর অসাধারণ স্বাদ সকলের মন কেড়ে নেয়। বাইরের মচমচে আস্তরণ এবং ভেতরকার সুস্বাদু মশলাদার পুর এই সমোসাকে এক আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। আরা শহরে পা রাখলেই বহু মানুষ এই সমোসার স্বাদ নেওয়াকে নিজেদের ভ্রমণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।
গোপীজির এই সমোসার মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর তৈরির নিখুঁত কায়দায়। গত পাঁচ দশক ধরে এখানে সম্পূর্ণ নিরামিষ অর্থাৎ রসুন ও পেঁয়াজ ছাড়া সমোসা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর পরেও মশলার এমন এক অপূর্ব ভারসাম্য বজায় রাখা হয় যে স্বাদের দিক দিয়ে কোনো কমতি অনুভূত হয় না। সমোসার বাইরের খাস্তা খোল এবং ভেতরের মুখরোচক পুর একে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। ঠিক এই কারণেই একবার যিনি এখানে খান, তিনি বারবার ছুটে আসেন। অত্যন্ত সাধারণ উপাদানে তৈরি এই সমোসা আজ গোটা আরা শহরের ফুড ম্যাপের এক অন্যতম প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে।
গোপীজির স্টলে সমোসার তুমুল জনপ্রিয়তার আন্দাজ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিমাণ দেখলেই। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি ময়দা দিয়ে সমোসা তৈরি করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, একটি সমোসার দাম মাত্র ১০ টাকা রাখা হয়েছে। সুলভ মূল্যে এমন সুস্বাদু খাবার পাওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও দারুণভাবে আকৃষ্ট হন। সকাল থেকে শুরু করে সারা দিনই এই স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে একই রকম মান ও স্বাদ বজায় রাখার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা আজও গোপীজির সমোসাকে সমানভাবে জনপ্রিয় করে রেখেছে।
তবে শুধু সমোসাই নয়, এর সঙ্গে পরিবেশন করা বিশেষ চাটনিও গ্রাহকদের মুখে জল আনে। বিশেষ এই টক চাটনি দই দিয়ে তৈরি করা হয় এবং এতেও কোনো পেঁয়াজ বা রসুনের ব্যবহার করা হয় না। সমোসার মুচমুচে ভাব, মশলাদার পুর এবং খাস দইয়ের চাটনির এই মেলবন্ধন এক স্বর্গীয় স্বাদের সৃষ্টি করে। এই কারণেই ক্রেতারা সমোসার সঙ্গে এই বিশেষ চাটনির স্বাদ নিতে কখনো ভোলেন না। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ বজায় থাকায় চাটনিও আজ গোপীজির সমোসার ব্র্যান্ড পরিচয়ের একটি প্রধান অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
গোপীজির এই ক্ষুদ্র সমোসার স্টলটি কেবল স্বাদের জন্যই বিখ্যাত নয়, এটি বহু মানুষের রুটি-রুজির একটি স্থায়ী মাধ্যমও বটে। এখানে কর্মরত কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে গোপীজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কারোর ২০ বছর তো কারোর আবার প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার। বর্তমানে এই পুরনো ব্যবসাটি থেকে চারজন মানুষ সরাসরি স্থায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন। বিগত পাঁচ দশকে যুগ ও প্রজন্ম বদলে গেলেও, এই সমোসার জাদুকরী স্বাদ এবং কর্মীদের পারস্পরিক আন্তরিকতা আজও আগের মতোই অটুট রয়েছে।