আর কর মামলার চাঞ্চল্যকর মোড়! ওড়িশার পর এবার বেঙ্গালুরুতে পুলিশের হাতে পাকড়াও তৃণমূল নেতা!

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি এবং একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেলেন না পানিহাটির বিতর্কিত প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেমিকার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই তাঁকে পাকড়াও করল ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এবং খড়দহ থানার যৌথ দল। বুধবার গভীর রাতে বেঙ্গালুরুর একটি হোটেল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এরপর স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর বৃহস্পতিবার সকালেই বিমানে করে তাঁকে সরাসরি কলকাতায় উড়িয়ে আনা হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত তড়িঘড়ি দাহ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক ভূমিকা ছিল এই সোমনাথ দে-র। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, মৃতার ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে জোরপূর্বক সই করিয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তথ্য ও প্রমাণ লোপাটের চরম চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নেমে এর আগেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির পরই গ্রেপ্তারির তীব্র ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন সোমনাথ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অত্যন্ত সুকৌশলে একের পর এক সিম কার্ড ও মোবাইল হ্যান্ডসেট পরিবর্তন করছিলেন সোমনাথ দে। ওড়িশা, হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সম্ভাব্য আস্তানায় লাগাতার তল্লাশি চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সোমনাথের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য গোয়েন্দারা তাঁর নিজের মেয়ে এবং বিশেষ করে তাঁর প্রেমিকার মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারি শুরু করেন। অবশেষে গার্লফ্রেন্ডের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই নিখুঁত ফাঁদ পাতে ব্যারাকপুর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিডি)। বুধবার রাতে বেঙ্গালুরুর হোটেল চত্বরে ওত পেতে থেকে তাঁকে একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা। যদিও কলকাতার বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ধৃত প্রাক্তন চেয়ারম্যান।