কোথাও শুধু বন্যা, কোথাও খরা; কোন ভয়ঙ্কর ‘টিপিং পয়েন্ট’-এর দিকে এগোচ্ছে পৃথিবী?

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে গোটা পৃথিবী। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা সত্যি করে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হারে তাপমাত্রা বাড়লে উষ্ণায়নের এক বিধ্বংসী রূপ দেখতে পাবে বিশ্ব, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে মানবজীবন, পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এবং অর্থনীতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা যতটা সম্ভব কম রাখা।

বিপজ্জনক ‘টিপিং পয়েন্ট’ এবং জলবায়ুর রদবদল তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘টিপিং পয়েন্ট’-এ পৌঁছে যাবে। এই সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ুর পরিবর্তন এমন এক দ্রুত ও অপরিবর্তনীয় পর্যায়ে পৌঁছবে, যার ফল হবে মারাত্মক। এর জেরে মেরু অঞ্চলের বিশাল বরফস্তর গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা উপকূলবর্তী শহর ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলিকে জলের তলায় ডুবিয়ে দিতে পারে। এছাড়া পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত অ্যামাজন বনাঞ্চল ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে।

পরিবেশ থেকে অর্থনীতি, সর্বগ্রাসী সংকট উষ্ণায়নের জেরে গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা হু হু করে বাড়বে। পারমাফ্রস্ট বা বরফ জমে থাকা মাটি গলে এবং ঘন ঘন দাবানলের ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন ছড়িয়ে পড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এর জেরে সারা বিশ্বে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার প্রকোপ অসহ্য মাত্রায় বাড়বে।

  • কৃষির পতন ও খাদ্যাভাব: অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরা কিংবা হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে তলানিতে ঠেকবে ফসলের উৎপাদন। এর জেরে বাজারে খাদ্যের জোগান কমে গিয়ে আকাশছোঁয়া দাম হতে পারে, যার ধাক্কায় চরম সংকটে পড়বেন দরিদ্র মানুষ।

  • স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি: দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ফলে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। পাশাপাশি মশাবাহিত ও জলবাহিত রোগের বিস্তারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে।

  • অর্থনৈতিক বিপর্যয়: বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা দাবানলে পরিকাঠামো ধ্বংস হলে তা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। চরম আবহাওয়ার কারণে কৃষি ও নির্মাণ খাতের মতো ক্ষেত্রগুলিতে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় ধস নামবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রমবর্ধমান গতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এখনই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না করলে অদূর ভবিষ্যতে এক অপরিবর্তনীয় সংকটের মুখে পড়তে পারে গোটা মানবসভ্যতা।