“বন্দে মাতরম না গাইলে সরকারি সাহায্য বন্ধ!” শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে আগের সরকারকে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে জাতীয়তাবাদ ও সংস্কার ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দিল সরকার। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্ববর্তী বাম ও তৃণমূল জমানার শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে তোষণ নীতি বা কোনো রকম বিভাজন আর বরদাস্ত করা হবে না।

সিলেবাস ও তোষণ নীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা:
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, আগের সরকারগুলির আমলে সুকৌশলে শিশুদের সিলেবাসে ভাষার বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বদলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম স্থান পেত বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি, অতীতে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদেরই স্কলারশিপ দেওয়ার বৈষম্যমূলক নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বন্দে মাতরম ও প্রার্থনা নিয়ে কঠোর বার্তা:
স্কুলে প্রার্থনা চলাকালীন পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেউ ঠোঁট না নাড়লে বা গাইতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা মাথায় রেখে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে বিদ্যাভারতীর স্কুলের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশপ্রেম প্রসঙ্গে হুংকার:
শিক্ষাঙ্গনে দেশপ্রেম ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে এনসিসি এবং ব্রতচারী আবার চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান বা বিতর্কিত দেওয়াল লিখন নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দেওয়ালে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” না লিখে হিম্মত থাকলে “ফ্রি পিওকে” বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর মুক্ত করার কথা লেখার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

বিদ্যাসাগর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে পাথেয় করে পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে বেরিয়ে মানুষ গড়ার শিক্ষায় আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।