২০১৫ থেকে ২০২৬— প্রকৃতির একটানা রুদ্ররোষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল! এক নজরে ১০ বছরের ভয়াবহ ইতিহাস

পাহাড়ের সৌন্দর্য মানেই রোমাঞ্চকর আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের লুকোচুরি আর ঝরনার কলকল শব্দ। কিন্তু এই শান্ত ও মনোরম প্রকৃতিই কখন যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে সর্বগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে, তার মর্মান্তিক প্রমাণ মিলছে বারবার। তুষারাবৃত পর্বতমালা আর সবুজ উপত্যকায় ঘেরা হিমালয়ের ‘রাজকন্যা’ নেপাল গত এক দশকে যেভাবে প্রকৃতির লাগাতার কোপানলের শিকার হয়েছে, তা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্প থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বান—প্রতিটি দুর্যোগ যেন কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের প্রাণ এবং চিরতরে বদলে দিয়েছে দেশটির মানচিত্র।

এক নজরে গত এক দশকের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ইতিহাস:

২০১৫ সালের ভূমিকম্প: ২৫ এপ্রিল ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল। লামজং জেলার সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্র থাকা এই মহাপ্রলয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

২০২১ সালের বন্যা ও ভূমিধস: অমৌসুমী ও অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি ধস এবং বন্যায় সেসময় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

২০২৩ সালের তাণ্ডব: অবিরাম বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে জনজীবন।

২০২৪ সালের ধ্বংসলীলা: জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলা দফায় দফায় বর্ষণ, হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া এবং পাহাড়ি ধসে দেশজুড়ে কয়েকশো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। লাখ লাখ টাকার পরিকাঠামোগত ক্ষতি ও কোটি টাকার আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হয় নেপালকে।

২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি: সাম্প্রতিক কালে চিন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ধসে পড়ার ফলে তৈরি হয় ভয়ঙ্কর হড়পা বান। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের সমস্ত গ্রাম ও শহর গ্রাস করে নেয়। একের পর এক বাড়ি, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এই বিপর্যয়ের মর্মান্তিক প্রভাব পড়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ওপরও।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই বারবার ফিরে আসা ধ্বংসলীলাই এখন বিশ্বজুড়ে পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।