কাশী কাঁপছে জলে! বারাণসীর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সোজা ডিনামাইট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর!

উত্তরপ্রদেশের অন্তত ৩২টি জেলা বর্তমানে অবিরাম ও ভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের সংসদীয় এলাকা বারাণসীতে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। নিজ এলাকার এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তের জন্যও নজর সরাননি প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সরাসরি বারাণসীর মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারি এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সত্যেন্দ্র কুমারের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বন্যাকবলিত প্রতিটি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে এবং দুর্গতদের দুর্ভোগ কমাতে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও তাঁদের বিশেষ যত্ন নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেসব এলাকায় ত্রাণ সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে, সেখানে অবিলম্বে অতিরিক্ত লজিস্টিক এবং জরুরি সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, বারাণসীর বন্যা পরিস্থিতি এবং চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে, বিভিন্ন বন্যা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শিশু, নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের বিশেষ চাহিদা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেয়রকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মোদী।

এদিকে, লাগাতার বৃষ্টির জেরে বুধবারই বারাণসীতে পবিত্র গঙ্গা নদীর জলস্তর সমস্ত বিপদসীমা ও সতর্কসীমা অতিক্রম করে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সমস্ত ধরণের নৌকা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তীর্থযাত্রী ও সাধারণ বাসিন্দাদের ঘাট এবং তীব্র স্রোতযুক্ত বিপজ্জনক এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, গঙ্গা ও বরুণা নদীর ক্রমবর্ধমান জলস্তর এবং বরুণা অববাহিকার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রশাসনিক টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে। বারাণসীতে ইতিমধ্যেই মোট ১৩টি অস্থায়ী বন্যা ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২১৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৯৩৫ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

শুধু বারাণসী বা অযোধ্যাই নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর তীব্র সক্রিয়তার ফলে উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৩২টি জেলায় বন্যার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, গোরখপুর, আজমগড়, বালিয়া, বারাবাঙ্কি, চান্দৌলি, চিত্রকূট, ফারুখাবাদ, বাদাউন, গাজিপুর, হাপুর, হারদোই, কাসগঞ্জ, লখিমপুর খেরি, মির্জাপুর, মোরাদাবাদ, সুলতানপুর, শাহজাহানপুর, সীতাপুর, উন্নাওসহ মোট ২০টি জেলার গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে, জরাজীর্ণ ভবন, ভারী গাছ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী খুঁটি বা ছেঁড়া তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।