সূর্যাস্তের পর মন্দিরে পা রাখলেই মৃত্যু! বিহারের ৩৫০ বছরের প্রাচীন রহস্যময় বন দেবী মন্দিরের আসল সত্যিটা কী?

ভারতের বুকে এমন বহু প্রাচীন ও রহস্যময় মন্দির ছড়িয়ে রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অজানা লোককথা ও অলৌকিক বিশ্বাস। আর সেই কারণেই দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ছুটে আসেন এই পবিত্র স্থানগুলি দর্শনের জন্য। বিহারের বুকেও এমন বেশ কিছু ধর্মীয় স্থান রয়েছে, যেগুলির অমীমাংসিত রহস্য আজও মানুষকে সমানভাবে বিস্মিত করে। এই রহস্যময় তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হলো পাটনার বিহটা এলাকার আমহারা, রাঘোপুর ও কাঞ্চনপুর গ্রামের সীমান্তে অবস্থিত প্রাচীন ও অতীন্দ্রিয় সিদ্ধপীঠ ‘মা বন দেবী মন্দির’। সাম্প্রতিককালে বলিউড অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ভবান’-এর কাহিনী এই মন্দির ও এর সঙ্গে জড়িত লোমহর্ষক লোককথা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার দাবি ওঠার পর থেকেই মন্দিরটি নতুন করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস অনুসারে, প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক বন দেবী মন্দিরের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং একাধিক অজানা রহস্যে ঘেরা। এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে গর্ভগৃহে দেবীর প্রথাগত কোনো পাথরের বা ধাতুর মূর্তি স্থাপন করা নেই। ভক্তরা দেবী বন দেবীর প্রতিমূর্তি হিসেবে সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক ও পবিত্র ক্ষেত্রকেই পূজা করে থাকেন। প্রচলিত জনশ্রুতি রয়েছে যে, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই এই মন্দির সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে যায়। সন্ধ্যার আরতি সম্পন্ন হওয়ার পর কেউ সেখানে থাকতে পারেন না এবং মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি মন্দিরের প্রধান পুরোহিতও সন্ধ্যার পর এই প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে চলে যান। এই রহস্যময় ঐতিহ্য ও নিষেধাজ্ঞা মন্দিরটিকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ও ভয় উভয়ই বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই মন্দিরকে ঘিরে মহাভারত যুগেরও গভীর সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অজ্ঞাতবাস ও বনবাসের সেই কঠিন দিনগুলিতে পাণ্ডবরা এই ঘন জঙ্গলে এসে দেবী শক্তির আরাধনা করেছিলেন। এই সমস্ত পৌরাণিক লোককথার কারণে বন দেবী মন্দিরটিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাচীন শক্তিস্থল হিসেবে গণ্য করা হয়। একদিকে সূর্যাস্তের পর রহস্যজনকভাবে মন্দির খালি হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে প্রতিমা ছাড়াই অলৌকিক পদ্ধতিতে দেবীর আরাধনা—সব মিলিয়ে বিহারের এই প্রাচীন বন দেবী মন্দির আজও মানুষের মনে এক গভীর বিস্ময় ও রোমাঞ্চের সৃষ্টি করে চলেছে।