উইলে সই ও আঙুলের ছাপ থাকলেই কি তা বৈধ? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওড়ে গেল সমস্ত ধারণা!

কাগজে সই বা আঙুলের ছাপ থাকলেই কিংবা রেজিস্ট্রি করা হলেই কোনো উইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। উত্তরাধিকার এবং প্রমাণ পেশ আইনের নির্দিষ্ট ধারা মেনে উইলের সত্যতা প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ পেশ করেছেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উইলের ক্ষেত্রে কেবল সম্পত্তির মালিকের সই বা আঙুলের ছাপ থাকা যথেষ্ট নয়। ভারতের উত্তরাধিকার আইনের ৬৩(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো উইলে কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। ওই সাক্ষীদের হয় মালিককে সই করতে নিজ চোখে দেখতে হবে, কিংবা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে অবগত থাকতে হবে।

আদালতের কড়া বার্তা, উইলের রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকলেও সাক্ষীদের সইয়ের মতো জরুরি বিষয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না। মূল সাক্ষীরা বেঁচে থাকলে তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনের সাক্ষ্য দিয়ে উইলের বৈধতা প্রমাণ করতে হয়। সই না করে কেবল উইল তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন এমন কোনো ব্যক্তির দাবি এক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য করবে না আদালত।

মূল সাক্ষীরা মারা গেলে বা অনুপস্থিত থাকলে তবেই বিকল্প উপায়ের প্রশ্ন ওঠে। তবে স্বাভাবিক উপায়ে সত্যতা প্রমাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিকল্প পথ নেওয়া যায় না। কোনো উইলের সত্যতা নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ বা প্রশ্ন থাকলে সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সাক্ষ্য আবশ্যিক বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ১৯৭৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের একটি পুরোনো উইলের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেই এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।