“চিকিৎসার জন্য আর বাইরে ছুটতে হবে না!”-ফের ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথমবার দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক সফরে এসে এক গুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারার পর, বিকেলে তাঁকে পাশেই রেখে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখান থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর জন্য একযোগে তিনটি বড় উপহারের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর সচল করার এই ঘোষণায় গোটা জেলাজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে।

বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা ও ৭২ আসনের ফ্লাইট

বালুরঘাটে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিমানবন্দর থাকলেও সেটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এ দিন সেই বিমানবন্দরটি ফের চালু করার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে ১৯ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও রাজ্য সরকার তাতে সন্তুষ্ট নয়। সরকারের লক্ষ্য, সেখানে সরাসরি ৭২ আসনের বিমান নামানো। এই পরিষেবা চালু হলে জেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে।

মেডিক্যাল কলেজ এবং নার্সিং কলেজের রূপান্তর

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি মেডিক্যাল কলেজ চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ দিন সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বালুরঘাট জেলা হাসপাতালটিকেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরিত করা হবে। আগামী কালীপুজোর পরেই এর ভূমিপুজো হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই সেখানে চালু থাকা নার্সিং স্কুলটিকেও একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সিং কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কিংবা কলকাতা পর্যন্ত দৌড়াতে হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পঠনপাঠন বৃদ্ধি

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপহার হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বৃহত্তর পরিসরে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র তিনটি বিষয়ে পঠনপাঠন হলেও, তা বাড়িয়ে এবার সাতটি বিষয়ে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক জনকল্যাণমুখী ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত জেলাবাসী। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা ও চিকিৎসার পরিকাঠামো আমূল বদলে যাওয়ার এই পদক্ষেপে দক্ষিণ দিনাজপুর এক নতুন দিশা পাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।