চৈনিক অফিসারের খামখেয়ালিপনাতেই কি ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? ত্রাশ ছড়াচ্ছে নেপালের জলপ্রলয়!

নেপালের সুপরিচিত ত্রিশূলী-৩এ (Trishuli-3A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ জলপ্রলয় ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২৬ আগস্ট তারিখে পাহাড়ি এই এলাকায় আঘাত হানা এক ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যায় সুড়ঙ্গের ভেতরে করুণ পরিণতি হয়েছে বহু শ্রমিকের। প্রাণে বেঁচে ফেরা এক শ্রমিক রাজ ছেত্রী জানিয়েছেন যে, যখন এই বিপর্যয় নেমে আসে, তখন ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ২৬৫ জন শ্রমিক অত্যন্ত ব্যস্ততার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ করেই সুড়ঙ্গের অন্দরে এক ভয়ঙ্কর ও অস্বাভাবিক জোরালো আওয়াজ শুনতে পান শ্রমিকরা, যা দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক প্রলয়ংকরী ঝড় আছড়ে পড়েছে। শ্রমিকরা সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আঁচ করে একজন চীনা সুপারভাইজারকে সতর্ক করেন এবং দ্রুত সুড়ঙ্গ থেকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই চীনা সুপারভাইজার শ্রমিকদের কাজ বন্ধ না করে উল্টে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং নিজে বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা বলে সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজ ছেত্রী আরও জানান যে, এর ঠিক কিছু মুহূর্তের মধ্যেই সুড়ঙ্গের ওপরের অংশ দিয়ে টন টন জল এবং ভারী মড়কার এক বিশাল ঢল হুড়মুড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে রাজ ও তাঁর সঙ্গীরা কোনোমতে সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। সৌভাগ্যবশত চারজন শ্রমিক কোনোমতে গেটের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, তাদের মধ্যে দু’জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বেঁচে ফেরা ওই শ্রমিকের অভিযোগ, যদি বিপদ আঁচ করার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে হয়তো এত বড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যেত। সর্বগ্রাসী এই বন্যার তাণ্ডব থামার পর সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, বাইরে অবস্থানরত কর্মীরা ভেতরে আটকে থাকা জীবিত মানুষের কান্নাকাটি ও বাঁচানোর আকুতি শুনতে পান। রাজ ছেত্রীর ভাষায়, সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের সামনে তখন একটাই কঠিন বিকল্প খোলা ছিল—অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বাজি রাখা কিংবা নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পেছনে ব্যবস্থাপনার মারাত্মক গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।