কলকাতায় বসছে তারকার মেলা! মহানায়কের জন্মশতবর্ষে কী কী উপহার দিচ্ছে রাজ্য সরকার?

চলতি বছর ঐতিহাসিক শতবর্ষে পদার্পণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকা মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং বাঙালি সংস্কৃতির এই দিকপালকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একগুচ্ছ বর্ণাঢ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হবে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ। এই মেগা উৎসবকে সফল করে তুলতে ইতিমধ্যেই টলিউড জুড়ে তুঙ্গে উঠেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পর্ব।
উৎসবের রূপরেখা তৈরি করতে সম্প্রতি কলকাতার নন্দনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বর্ণাঢ্য উদযাপনের সম্পূর্ণ কর্মসূচি প্রকাশ্যে আনা হয়। নন্দনের সেই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একধিক হেভিওয়েট তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, যিশু সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তীর পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহানায়কের পুত্রবধূ মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ও। ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের পারস্পরিক এই মহামিলন অনুষ্ঠানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে চার দিনের এই মেগা উৎসব। উদ্যোক্তাদের মতে, এই কদিন সাধারণ মানুষ শুধু চলচ্চিত্র উপভোগ করবেন না, বরং উত্তমকুমার অভিনীত ছবির প্রতিটি নিখুঁত মুহূর্ত অন্তরে অনুভব করবেন। এই বিশেষ আয়োজনকে ঘিরে গোটা শহর সেজে উঠেছে মহানায়কের নানা রঙে। রবীন্দ্র সদন চত্বর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঢেকে ফেলা হয়েছে কিংবদন্তি অভিনেতার বিশালাকার কাটআউট ও ব্যানারে।
কর্মসূচির শুরুতেই ৩ সেপ্টেম্বর সকালে আহিরিটোলা ও টলিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এরপর বিজয়ী সিনেমার সামনে উন্মোচিত হবে একটি সুদৃশ্য ২০ ফুটের সুবিশাল কাটআউট। ওই দিন সন্ধ্যা ছটায় নন্দন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে একতারা মুক্তমঞ্চ পর্যন্ত একটি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এই বর্ণাঢ্য মিছিলে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট শিল্পীদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচক, লোকশিল্পী ও অসংখ্য গুণমুগ্ধরা পা মেলাবেন। গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় উদ্বোধন হবে মহানায়কের স্মৃতির বিশেষ প্রদর্শনীর, যেখানে দেখা যাবে তাঁর জীবনের বহু অজানা অধ্যায়। প্রথম দিনের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শেষ হবে কেক কেটে এবং বিশেষ প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারে’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পর্ব। একই সঙ্গে নন্দন ১, ২ এবং রাধা স্টুডিওতে শুরু হবে মেগা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, যেখানে উদ্বোধনী ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হবে সত্যজিৎ রায়ের মাস্টারপিস ‘নায়ক’। রবীন্দ্র সদনে প্রবীণ শিল্পীদের বিশেষ সংবর্ধনা এবং ভারতীয় ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে একটি এক্সক্লুসিভ বিশেষ খাম ও ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে বিশেষ তথ্যচিত্র ‘Mahanayak: A Superstar Journey’।
পঞ্চম দিন অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দুটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় আলোচনা সভা— ‘নায়িকাদের চোখে উত্তম কুমার’ এবং ‘অভিনেতা উত্তম কুমার’। মহানায়কের সহকর্মী ও উত্তরসূরী শিল্পীরা এই মঞ্চে তাঁর অনন্য অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন। পরিশেষে, ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রসদনে দেবজ্যোতি মিশ্র ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের পরিকল্পনায় সংগীত ও নৃত্যনির্ভর বিশেষ নিবেদন ‘উত্তম কুমারের প্রতি সংগীত শ্রদ্ধাঞ্জলি’-র মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।