যুদ্ধ থামানোর মোদীর বার্তার পরেই কেঁপে উঠল কিভ! পুতিনকে শান্তির পাঠ পড়ানোর পরই ভয়ঙ্কর রুশ হানায় মৃত ৯

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শান্তি বার্তা এবং যুদ্ধ থামানোর জোরালো আহ্বানের সুনির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভসহ সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে ভয়ংকর সামরিক হামলা চালাল রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাदिमीर পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, মানবজাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্বকে এখন ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ পরিহার করে ‘যুদ্ধের সমাপ্তি’ ও শান্তির পথে হাঁটতে হবে। কিন্তু কূটনৈতিক টেবিলের এই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই কিভে পর পর শক্তিশালী মিসাইল ও ড্রোন আছড়ে পড়ে, যার ফলে অন্তত নয়জন সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
গত মঙ্গলবার সকালের এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গোটা কিভ শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনীয় জরুরিকালীন পরিষেবা সূত্রে জানানো হয়েছে যে, রাজধানী ও তার আশেপাশের এলাকায় চলা এই লাগাতার ষষ্ঠ দিনের হামলায় বহু আবাসিক বহুতল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে একাধিক শিশুও রয়েছে বলে খবর মিলেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও বসে নেই; রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত উস্ত-লুগা বন্দর এলাকায় এবং সমারা অঞ্চলের প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রোমানিয়া সীমান্তবর্তী দানিউব নদীর নিকটবর্তী ওরলিভকা এলাকায় হামলার ফলে ন্যাটো সদস্য দেশের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ও যোগাযোগের পথ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক কিতাবি আলোচনার সমান্তরালে যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবোচিত রূপ যে বিন্দুমাত্র বদলায়নি, এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট দলিল। এর আগে বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে পুতিন দাবি করেছিলেন যে রাশিয়াও শান্তি প্রক্রিয়ার পথেই এগোতে চায়। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে বিশদ বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন এটাই যে, মোদীর মতো বিশ্বনেতাদের শান্তির আবেদন কি আদপে পুতিন আমলে নেবেন, নাকি কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্ব আরও বড় কোনো ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে?