পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বড় চাল পাকিস্তানের! সাংবিধানিক বদল এনে গিলগিট-বাল্টিস্তানকে কি নতুন প্রদেশ বানানোর ফাঁদ?

পাকিস্তান প্রশাসন আরও একবার তাদের অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলির সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল করার গোপন পরিকল্পনা শুরু করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রদেশের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তাব নিয়ে தீவிர মূল্যায়ন চলছে। যদিও এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক প্রস্তাবের ওপর এখনও পর্যন্ত পাক সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইসলামাবাদে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে যে, পাকিস্তানের সংবিধানের ১(২) অনুচ্ছেদে কোনো সাংবিধানিক সংশোধন আনা যায় কি না, যা মূলত দেশের ভৌগোলিক সীমানা ও অঞ্চলগুলিকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এই অঞ্চলগুলিকে কৌশলে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য হয় একটি সম্পূর্ণ পৃথক বিশেষ আইন প্রণয়ন করার কথা ভাবা হচ্ছে অথবা সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট পথ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার এবং পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয় স্তরে পাক সেনা ও সরকারের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবি বহুবার জোরালো হয়েছে, এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের স্বর তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের এই मुखর ও ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদের সুরকে দমিয়ে রাখতে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পাকিস্তান সরকার এই নতুন কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করছে।
এই ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা CPEC-এর মতো মেগা প্রজেক্ট, যা গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রসারিত, তাকে দীর্ঘমেয়াদী আইনি বৈধতা ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রভিন্স বা প্রদেশের মর্যাদা দেওয়া হলে প্রকল্পগুলির রূপায়ণ ও আইনি জটিলতা মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে। তবে এই পদক্ষেপে ভারতের নজর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ রয়েছে। ভারত সবসময় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে অবৈধ দখলে থাকা এই ভূখণ্ডের স্থিতাবস্থায় যেকোনো ধরনের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সরাসরি পরিপন্থী। এখন এটাই দেখার বিষয় যে আন্তর্জাতিক চাপ, তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং ভারতের কঠোর অবস্থানের মুখে পাকিস্তান এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ায় কি না।