স্কুলছাত্র থেকে সোজা জাতীয় যুব দল! সৌরভের হাত থেকে ব্যাট উপহার পেয়ে কী বললেন অনূর্ধ্ব-19 দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার?

ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে প্রথমবার সুযোগ পাওয়ার পরই সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছেন দুর্গাপুরের তরুণ তুর্কি অভিপ্রায় বিশ্বাস। সম্প্রতি ‘ইটিভি ভারত’-এর মুখোমুখি হয়ে নিজের উচ্চাশার কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, জাতীয় সিনিয়র দলে প্রবেশ করাই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আর এই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার মা’কে সঙ্গে নিয়ে সোজা কলকাতায় হাজির হন উদীয়মান এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ক্রিকেটের নন্দনকাননে পৌঁছে সরাসরি দেখা করেন বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা CAB-এর প্রেসিডেন্ট তথা ভারতীয় দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মহারাজ যেমন তাঁকে একরাশ উৎসাহ জুগিয়েছেন, তেমনই কড়া অনুশাসন ও পরিশ্রমের পাঠও পড়িয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় সিএবি-তে পৌঁছানোর পর অভিপ্রায়ের হাতে স্নেহের নিদর্শন স্বরূপ দুটি ব্যাট তুলে দেন স্বয়ং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু ব্যাট উপহার দেওয়াই নয়, সাফল্যের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি বেশ কিছুক্ষণ তরুণ ক্রিকেটার ও তাঁর মায়ের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন মহারাজ। মুম্বই থেকে সদ্য ফিরে এই তরুণ তুর্কিকে উৎসাহ জোগাতে সিএবি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দেশের মাটিতে ক্রিকেট প্রতিভার অভাব নেই এবং বাংলায় প্রতিভার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত মেধার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতাই যে সাফল্যের চাবিকাঠি, সেকথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নামার আগে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের এই বহুমূল্য পরামর্শ পেয়ে আপ্লুত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিপ্রায়।
এদিন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সচিব বাবলু কোলে, সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নতুন উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে পরামর্শ দিয়ে সৌরভ বলেন যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার আগে কোনো ভয় না রেখে সম্পূর্ণ নির্ভীক ও আগ্রাসী মেজাজে ক্রিকেট খেলা উচিত। একইসঙ্গে বয়সের জালিয়াতি রোধে সিএবি-র সাম্প্রতিক কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে, এই ধরনের নিয়মের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। পড়াশোনা এবং খেলাধুলোর মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে বাংলার ঘরের ছেলে অভিপ্রায় যেভাবে ধাপে ধাপে জাতীয় দলের দিকে এগিয়ে চলেছেন, তাতে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের বুক গর্বে ফুলে উঠেছে। ঋদ্ধিমান সাহার আদর্শকে সামনে রেখে অজিভূমে নামার আগে এখন শুধুই বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার পালা।