দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ঝাঁকে ঝাঁকে পদত্যাগ! আলওয়ার বিজেপিতে মারাত্মক সংকটের মেঘ

রাজস্থান পৌরসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে আলওয়ারে শাসকদল বিজেপির অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। পৌরসভার মোট ৬৫টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের টিকিট বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দলের বহু পুরোনো ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা কর্মীদের ক্রমাগত অবহেলা করার গুরুতর অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মণ্ডল সভাপতি এবং ঊর্ধ্বতন দলীয় কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। ক্ষুব্ধ নেতাদের প্রধান অভিযোগ, একনিষ্ঠ কর্মীদের বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রমকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে টিকিট বিতরণে বহিরাগত এবং অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটিয়ে বিবেকানন্দ মণ্ডলের সভাপতি জিতেন্দ্র সিং রাঠোর প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মণ্ডলের অধীনস্থ ওয়ার্ডগুলিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে এমন সব ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হয়েছে যাদের দলীয় পটভূমি অত্যন্ত প্রশ্নবিচিহ্ন। এছাড়া সাধারণ শ্রেণীর জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলিতে অন্য বর্ণের প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় মন্ত্রী ও প্রবীণ নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে রাঠোর স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পৌরসভা নির্বাচন কোনো একক নেতার মর্জি বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং এটি বুথ স্তরের পরিশ্রমী ও লড়াকু কর্মীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।
একই সুর শোনা গেছে কেশব মণ্ডলের সভাপতি মহেশ নিহালওয়ানির গলাতেও। তিনিও টিকিট বণ্টন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নিহালওয়ানির মতে, তৃণমূল স্তরের কর্মীরা দিনের পর দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে আলওয়ারের মাটিতে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত সময়ে তাঁদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া হয়নি। শুধু পুরুষরাই নন, এই বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে মহিলা মোর্চাতেও। বিজেপির প্রবীণ সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু যাদব এবং মহিলা মোর্চার বিশিষ্ট কর্মকর্তা মধু আর্য দলের বর্তমান কার্যপদ্ধতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলীয় কর্মীদের মতামত ও সম্মানকে ধূলিসাৎ করে এমন একতরফা ব্যবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।
নির্বাচনের ঠিক মুখে এই আকস্মিক ও ব্যাপক পদত্যাগের ঘটনা আলওয়ারে বিজেপির জয়রথকে মারাত্মকভাবে থামিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যখন দল আলওয়ার পৌরসভায় এককভাবে বোর্ড গঠন এবং মেয়র পদ দখল করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে এসেছে। এখন রাজ্য নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে দলের টিকিটে লড়াই করা প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ ও ক্ষুব্ধ কর্মীদের দ্রুত শান্ত করে সংগঠনে ভাঙন রোধ করা। যদি এই অসন্তোষ সময়মতো প্রশমিত না করা হয়, তবে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।