৫ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের টার্গেট! জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভারত-উজবেকিস্তান চুক্তিতে কোন বড় চমক?

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে স্বাক্ষর করল ভারত ও উজবেকিস্তান। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ১৫ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মির্জিয়েভের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি, শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্য সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বর্তমান বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে এবং উভয় দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে বাজার প্রবেশাধিকার, ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার জট কাটানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), খনিজ সম্পদ, ক্লিন এনার্জি, মহাকাশ এবং পরমাণু শক্তির মতো ভবিষ্যতমুখী ক্ষেত্রগুলিতে যৌথভাবে কাজ করবে দুই দেশ।

কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উজবেকিস্তানের উদ্যানপালন দক্ষতার সঙ্গে ভারতের আধুনিক কৃষিপদ্ধতির মেলবন্ধনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভেষজ উদ্ভিদ ও আয়ুর্বেদের যৌথ প্রসারে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুধু রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের বিভিন্ন শহর ও রাজ্যগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, নগর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা এবং পর্যটনের প্রসার ঘটানো হবে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উজবেকিস্তানে হিন্দি ভাষার প্রসারে স্কলারশিপ এবং কুরাশ, কাবাডি ও দাবা খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রভাব বিস্তার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।