নেপালে মর্গ উপচে পড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ!, দেহ কবর দিচ্ছে সরকার, কী চলছে নেপালে?

ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকা। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেপালে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই সাড়ে সাতশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই হাজার। তিব্বতের নিখোঁজদের সংখ্যা যুক্ত করলে এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যানে নিখোঁজ বা মৃতের মোট সংখ্যা তিন হাজার অতিক্রম করেছে। দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আট হাজার সাতশো ৩০ জনকে।

এই প্রলয়ের জেরে চরম সংকট তৈরি হয়েছে দেশটির চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। মৃতদেহের সংখ্যা এত বেশি যে স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গ সম্পূর্ণ ভরে গেছে। পচন ধরে মহামারী ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলোকে ডিএনএ সংরক্ষণের পর সম্মানের সঙ্গে দাফন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

চিতওয়ানের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মৃতদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের মতো পরিকাঠামো বা পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার তাদের হাতে নেই। বাধ্য হয়েই তাই কবর দেওয়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহ দেড় মিটার গভীর গর্তে এবং একে অপরের থেকে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সমাহিত করা হচ্ছে। মৃতদেহগুলোকে বিশেষ ব্যাগে ভরে তার গায়ে নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর লিখে রাখা হচ্ছে। এছাড়া কবরের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য তা জিও-ট্যাগ করার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও রেকর্ডও করা হচ্ছে।

পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের শনাক্ত করতে নেপালজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এই নমুনাগুলোর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের ডিএনএ মিলিয়ে দেখবে। অন্যদিকে, নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের কাছে ডিএনএ নমুনা চেয়ে পাঠিয়েছে, যাতে সঠিক প্রক্রিয়া মেনে প্রিয়জনদের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।