চেয়ারে বেঁধে মারধর, যৌনাঙ্গে আঘাত! সাড়ে তিন বছরের শিশুর ওপর এ কোন পিশাচের অত্যাচার?

শিক্ষার মন্দির এক প্রকার নরককুণ্ডে পরিণত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এল। উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ থানা এলাকার একটি প্লে-স্কুলে সাড়ে তিন বছরের একরত্তি শিশুর ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্কুল ডিরেক্টর এবং প্রিন্সিপাল সহ চারজনের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ।

ঠিক কী হয়েছিল শিশুটির সঙ্গে?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিল সাড়ে তিন বছরের ওই শিশুটি। রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে না পারা, আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকা এবং টয়লেটে যেতে তীব্র ভয় পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখে সন্দেহ হয় বাবা-মার। এরপর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শারীরিক পরীক্ষার পর ডাক্তারবাবু জানান, শিশুটির কানের পর্দা ফুলে রয়েছে এবং তার শরীরে স্পষ্ট মারধরের চিহ্ন রয়েছে।

ছেলের মুখে ভয়ের কারণ জানতে পেরে স্কুলে ছুটে যান বাবা-মা। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকার অজুহাত দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিবারের নাছোড়বান্দা মনোভাবের মুখে পড়ে তাঁরা পিছু হটে। অভিযোগ, পরের দিন সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর নাম করে ১৫০০ টাকা ঘুষ নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিউরে ওঠেন বাবা-মা
টাকা দিয়ে ফুটেজ দেখার পর চোখ কপালে ওঠে অভিভাবকদের। দেখা যায়, স্কুলের এক শিক্ষক ওই শিশুর কান ধরে বেধড়ক মারধর করছে এবং দীর্ঘক্ষণ তাকে চেয়ারে বেঁধে রাখা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, টিফিনের সময় খাবার না দিয়ে বসিয়ে রাখার পাশাপাশি স্কুলের এক আয়া ওই শিশুর যৌনাঙ্গে আঘাত করছে। এই নৃশংস দৃশ্য দেখার পরেই তক্ষুণি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।