“উৎসবের আনন্দ নিমেষে বদলে গেল কান্নায়!” বোনকে রাখি পরানোর রাতেই কোণঠাসা করে কুপিয়ে খুন বিজেপি নেতাকে

উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় পবিত্র রক্ষা বন্ধন উৎসবের আনন্দ এক মুহূর্তে গভীর বিষাদে পরিণত হয়েছে, যখন গভীর রাতে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। সুভাষনগর থানার অধীনস্থ মারিথনাথ এলাকার মাঁঝে ওয়ালি বাগিয়া সংলগ্ন অঞ্চলে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক স্থানীয় নেতাকে নির্মমভাবে চাকুর আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বিজেপি নেতার নাম শচীন কশব, যিনি দলীয় সংগঠনের মারিথনাথ মণ্ডলের ওবিসি মোর্চার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উৎসবের রাতে হঠাৎ এই ধরণের রক্তক্ষয়ী হামলায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃত শচীন কশবের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির টাকার লেনদেন নিয়ে তীব্র আর্থিক বিরোধ চলে আসছিল। এমনকি এই একই বকেয়া টাকার হিসাব নিয়ে প্রায় এক মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও তুমুল বচসা হয়েছিল। সেই সময় এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও পরিচিতরা মধ্যস্থতা করে উভয়পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পুরনো ক্ষোভের আগুন যে ভেতরে ভেতরে ধিকিধিকি জ্বলছিল, তা কেউ অনুমান করতে পারেনি।

ঘটনার দিন অর্থাৎ রক্ষা বন্ধনের রাতে শচীন কশব মারিথনাথের মাঁঝে ওয়ালি বাগিয়া এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পথ আটকায় এবং পুনরায় টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এক হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে শচীনের ওপর ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালায়। একের পর এক প্রাণঘাতী আঘাতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলায় তিনি গুরুতর জ্যেষ্ঠ জখম হন। ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় শচীনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যে বাড়িতে উৎসবের রাতেই মিষ্টি মুখ ও ভাইফোঁটার আনন্দ উদযাপিত হচ্ছিল, সেখানে মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। সার্কেল অফিসার (সিও) নিতিন কুমার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে আর্থিক লেনদেন ও পুরনো শত্রুতার কথাই উঠে আসছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।