শিক্ষক নিয়োগে বিরাট সুখবর! বিপিএসসি টিআরই ৪-এ বাড়ল হাজারও শূন্যপদ, জেনে নিন নতুন হিসাব

বিহারের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক পদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া লক্ষ লক্ষ প্রতিযোগী পরীক্ষার্থীদের জন্য এক অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও আশার খবর সামনে এসেছে। বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিপিএসসি (BPSC)-র পক্ষ থেকে শিক্ষক নিয়োগের চতুর্থ দফা বা টিআরই ৪ (TRE 4) বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা আরও একবার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩৩,৩৮৫ জন শিক্ষককে সরাসরি বিভিন্ন পদে নিয়োগ করা হবে। সাম্প্রতিক এই পদ বৃদ্ধিতে বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণির জন্য নতুন করে ১১১টি মিউজিক শিক্ষক বা সঙ্গীত শিক্ষকের পদ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৩২,৩৮৮টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ২৪ আগস্ট দফায় দফায় আরও ৮৮৬টি পদ বাড়ানো হয় এবং সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে আরও ১১1টি পদ যুক্ত হওয়ায়, প্রাথমিক ঘোষণার তুলনায় বর্তমানে মোট ৯৯৭টি পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিউজিক শিক্ষক পদের এই নতুন সংযোজন প্রসঙ্গে জানা যায় যে, বিপিএসসি গত ১৮ আগস্ট টিআরই ৪-এর প্রাথমিক ভ্যাকেন্সি নোটিশ প্রকাশ করেছিল, যেখানে মোট ৩২,৩৮৮টি শূন্যপদ নির্ধারিত ছিল। এরপর বিভিন্ন বিষয়ের চাহিদা ও শূন্যপদের কথা মাথায় রেখে গত ২৪ আগস্ট বাংলা, ফাইন আর্টস বা ললিত কলা, ডান্স বা নৃত্য, মৈথিলী, আরবি, ফার্সি, স্পেশাল স্কুল, পালি, প্রাকৃত, ভোজपुरी, মগহি এবং কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ের মোট ৮৮৬টি পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার ফলে মোট শূন্যপদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৩৩,২৭৪টি। সর্বশেষ ১১১টি নতুন পদ যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা এখন চূড়ান্তভাবে ৩৩,৩৮৫টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন দাবি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এবার টিআরই ৪-এর একটি নতুন ও সংশোধিত বিজ্ঞাপন খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী, এই নিয়োগের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মনীতি এবং কাঠামোগত কিছু মৌলিক পরিবর্তন ঘটায় সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সম্পূর্ণ নতুন নির্দেশিকা ও তথ্য প্রকাশ করা হবে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ আলোচনার পর একটিমাত্র কমন বা একক পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে নেগেটিভ মার্কিং বা নেতিবাচক নম্বর কাটার নিয়ম তুলে দেওয়া এবং সিলেবাসে বড়সড় পরিবর্তনের কথা সামনে আসায় পরীক্ষার্থীরা ভীষণভাবে স্বস্তি পেয়েছেন। পাশাপাশি, বিএড (BEd) এবং অন্যান্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের ডিগ্রিধারীদেরও টিআরই ৪ পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার জোরদার দাবি জানানো হয়েছে। যদি এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্জুর করা হয়, তবে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখও স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতির মাঝেই বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশন বা বিএসএসসি (BSSC)-র পক্ষ থেকেও খুব শীঘ্রই তাদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন পরীক্ষা ক্যালেন্ডার বা এক্সাম শিডিউল প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা নানা কারণে ঝুলে রয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখগুলির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ ও উদ্বেগের সুরে প্রকাশ পেয়েছে যে, একের পর এক পরীক্ষায় অতিরিক্ত বিলম্ব হওয়ার কারণে তাঁদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের মনে তীব্র মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট তৈরি করছে। প্রশাসনিক স্তরে এই সমস্ত জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে স্বচ্ছ উপায়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি জোরালো হচ্ছে।