রোদ-বৃষ্টিতে আর কষ্ট নয়! রাখি পূর্ণিমায় নয়ডাবাসীকে দুর্দান্ত এসি স্কাইওয়াকের উপহার, জানুন বিশেষত্ব

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাখি বন্ধনের পবিত্র তিথিতে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো নয়ডার প্রথম স্কাইওয়াক। নয়ডাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংক্রান্ত দুর্ভোগ লাঘব করতে এটি প্রশাসনের তরফে এক বিরাট উপহার। প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ এবং এল-আকৃতির এই আধুনিক স্কাইওয়াকটি সরাসরি সংযুক্ত করেছে সেক্টর ৫১ এবং সেক্টর ৫২ মেট্রো স্টেশনকে। এর ফলে শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই করিডোর— অ্যাকোয়া লাইন এবং ব্লু লাইন মেট্রোর মধ্যে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য পথ চলা এখন অনেকটাই সহজ ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই স্কাইওয়াকটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC)। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার আবহাওয়া থেকেও যাত্রীরা এর সুবাদে মিলবে বড় স্বস্তি। শুধু তাই নয়, হাঁটার দূরত্ব ও ক্লান্তি কমাতে স্কাইওয়াক বরাবর বিশেষ ট্র্যাভেলেটরও স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আধুনিক অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা।

দীর্ঘ পথচলা ও নির্মাণ ব্যয়ের চিত্র ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল এবং প্রথমদিকে এক বছরের মধ্যে এটি শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। তবে একাধিক প্রযুক্তিগত বাধা, অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর নিষেধাজ্ঞা এবং খননকাজের সময় ভূগর্ভস্থ মেট্রো কেবল আবিষ্কারের মতো নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বেশ কয়েকবার বিলম্বিত হয়। এমনকি সেক্টর ৫২ স্টেশনের প্রবেশপথে একটি বিম বাধা হয়ে দাঁড়ালে নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়।

এই কারিগরি পরিবর্তন ও বিলম্বের প্রভাব পড়েছিল প্রকল্পের মোট খরচেও। প্রাথমিকভাবে এই স্কাইওয়াক নির্মাণে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকায়।

কীভাবে লাভবান হবেন যাত্রীরা? এই স্কাইওয়াক চালুর আগে সেক্টর ৫১ ও ৫২ মেট্রো স্টেশনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটি অস্থায়ী খোলা পথ ছিল, যা নির্মাণকাজ শুরুর সময় সরিয়ে ফেলা হয়। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে রোদ, বৃষ্টি ও তীব্র গরম উপেক্ষা করে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। নতুন এই এসি স্কাইওয়াক চালু হওয়ায় প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে যেমন মুক্তি মিলবে, তেমনই অটো বা ই-রিকশার ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমবে। জনাকীর্ণ রাস্তা ও দোকানপাটের ভিড় এড়িয়ে দুই মেট্রো লাইনের মধ্যে যাত্রীদের যাতায়াত এখন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও ঝামেলাহীন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।