সব কাক কি সত্যি এক সুরে ‘কা-কা’ ডাকে? জানলে চমকে যাবেন এই অদ্ভুত সত্যিটা!

দূর থেকে শুনলে সমস্ত কাকের ‘কা-কা’ ডাক একরকম মনে হলেও, বাস্তবে এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। মানুষকে যেমন তাদের আঞ্চলিক ভাষা এবং টানের (accent) মাধ্যমে সহজেই আলাদা করা যায়, ঠিক তেমনই কাকদের বিভিন্ন দলের মধ্যেও রয়েছে নিজস্ব উপভাষা বা ‘ডায়ালেক্ট’ (dialect)। পাখি বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক কিছু চমকপ্রদ পর্যবেক্ষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কাকদের ডাক এবং শব্দের ব্যবহারে স্পষ্ট তারতম্য দেখা যায়। এক এলাকার কাকের দল যে সুরে বা শব্দে নিজেদের মধ্যে ভাব আদান-প্রদান করে, অন্য এলাকার কাকের দল তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা সুর ব্যবহার করে। মানুষের ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে কথ্য ভাষার যেমন পরিবর্তন ঘটে, কাকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই।
কীভাবে তৈরি হয় কাকদের এই আঞ্চলিক ভাষা? জীববিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কাক অত্যন্ত বুদ্ধিমান একটি পাখি এবং এদের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। একটি নির্দিষ্ট এলাকার কাকের দল দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে তাদের ডাকের মধ্যে নিজস্ব কিছু সুর ও স্বর তৈরি হয়ে যায়। ছোট বয়স থেকেই ছানারা তাদের দলের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে এই নির্দিষ্ট শব্দ বা উপভাষাগুলো শেখে। ফলে ওই দলের প্রতিটি সদস্য একই ধরনের সংকেত বা আওয়াজে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো শিকারি প্রাণী বা বিপদের আগমন টের পেলে এক অঞ্চলের কাক যে শব্দে চিৎকার করে, অন্য অঞ্চলের কাকদের সতর্কবার্তা পাঠানোর স্বর কিছুটা আলাদা হয়। এই নিজস্ব উপভাষা ব্যবহার করেই কাকেরা নিজেদের সীমানা রক্ষা করে এবং অন্য কোনো অপরিচিত দলের কাককে সহজেই চিনে নিতে পারে। মানুষের মতো তাদের মধ্যেও যে আঞ্চলিক ভাষা ও টানের বৈচিত্র্য রয়েছে, তা প্রাণীজগতে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কাকদের এই স্বরের ভিন্নতা কেবল তাদের যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং তাদের উন্নত সামাজিক গঠন ও শেখার ক্ষমতার অন্যতম বড় প্রমাণ।