গাড়ি-বাইকের আলোতেই চোখ ধাঁধিয়ে যায়? হেডলাইট নিয়ে আসছে কড়া নিয়ম, মান না মানলেই পকেট ফাঁকা!

রাতে হাইওয়ে বা শহরের রাস্তায় গাড়ি কিংবা বাইক চালানোর সময় সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চোখ ধাঁধানো হেডলাইট। হাই বিমের (High Beam) অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোয় চোখের পলকে সাময়িকভাবে চালকের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, যা থেকে প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবং রাতের রাস্তায় পথচারী ও চালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গাড়ি ও বাইকের হেডলাইট নিয়ে একাধিক বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মগুলি মূলত ‘সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলেস’ (Central Motor Vehicles Rules)-এর সংশোধনের অংশ। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাতের বেলায় গাড়ি চালানোর সময় আলোর তীব্র ঝলকানি বা গ্লেয়ার (Glare) কমানো।
নতুন বাইকে লো বিম (Low Beam) কি বাধ্যতামূলক হচ্ছে? প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুই চাকার গাড়িতে থাকা ‘অটোমেটিক হেডল্যাম্প অন’ (AHO) সিস্টেমে বড় বদল আনা হতে পারে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নতুন বাইকের হেডলাইট শুধুমাত্র পাসিং বিম বা লো বিমে কাজ করবে। অর্থাৎ, বাইক স্টার্ট করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লো বিমে জ্বলবে এবং চালক ইচ্ছে করলেই স্বয়ংক্রিয় মোডে হাই বিম ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নতুন নিয়ম কেবল নতুন তৈরি হওয়া বাইকগুলির জন্যই প্রযোজ্য হবে। রাস্তায় চলাচলকারী পুরনো বাইকগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম এখনই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না।
কমবে হেডলাইটের তীব্রতা ও উজ্জ্বলতা শুধু লো বিম বাধ্যতামূলক করাই নয়, সমস্ত গাড়ি এবং বাইকের হাই-ইনটেনসিটি হেডলাইটের সর্বোচ্চ অনুমোদিত উজ্জ্বলতা বা ক্যান্ডেলা (Candela) কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে:
দুটি চাকার গাড়ি: ১.৫ লক্ষ ক্যান্ডেলা থেকে কমিয়ে ১ লক্ষ ক্যান্ডেলা করার প্রস্তাব।
চার চাকার গাড়ি: ২.২৫ লক্ষ ক্যান্ডেলা থেকে কমিয়ে ১.৫ লক্ষ ক্যান্ডেলা করার প্রস্তাব।
এর পাশাপাশি হেডলাইট এবং ফগ ল্যাম্পের কালার টেম্পারেচার (Colour Temperature) নিয়ন্ত্রণেও সর্বোচ্চ ৬,৫০০ কেলভিন সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত সাদা ও তীব্র আলো অন্যের চোখে সমস্যা তৈরি না করে।
হাই বিম জ্বালালেই বাজবে সতর্কবার্তা (Audio Alert) প্রস্তাবিত নিয়মের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আধুনিক দিকটি হলো হাই বিম ওয়ার্নিং সিস্টেম। শহরের জনবহুল রাস্তায় কোনো চালক অপ্রয়োজনে হাই বিম জ্বালিয়ে রাখলে গাড়ি নিজেই চালককে সতর্ক করবে এবং লো বিমে ফিরে যাওয়ার জন্য অডিও অ্যালার্ট বা শব্দ সঙ্কেত পাঠাবে। তবে এই সিস্টেমটি স্পিড-সেন্সিটিভ হতে পারে। অর্থাৎ, গাড়ি যদি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ফাঁকা হাইওয়েতে ছোটে, তখন এই সতর্কতা কাজ করবে না, কারণ কম আলোর হাইওয়েতে হাই বিমের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে রাতে দূর থেকে সহজে দৃশ্যমান হওয়ার জন্য জেনুইন রিফ্লেক্টিভ টেপ ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
কবে থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম? বর্তমানে এই সমস্ত নিয়মগুলি খসড়া বা প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন দুচাকা বাহনে এই নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে এখনই পুরনো গাড়ির হেডলাইট বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে লাইটিং সিস্টেমে যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।