কৈলাসের পথে চরম আতঙ্ক! নেপাল সীমান্তে ভয়ংকর ভূমিধস ও বন্যায় নিখোঁজ বহু ভারতীয়, হাহাকার পরিবারে!

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়াগাধি ও গিরং এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের জেরে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া শত শত ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উদ্ধারকারী দলগুলি আটকে পড়া দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেই নিখোঁজ ভারতীয়দের ভয়াবহ তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়ে অন্তত ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে, সামগ্রিক এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবের জেরে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন প্রান্তের শয়ে শয়ে মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে।

উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা—ভারতের দুটি সুনির্দিষ্ট ও সরকারি রুট থাকা সত্ত্বেও বহু তীর্থযাত্রী কেন বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে নেপাল রুট বেছে নেন, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র প্রশাসনিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া রুটটি মূলত ত্রিশূলী, ধুনচে, স্যাব্রুবেসি এবং রাসুওয়াগাধির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভূতাত্ত্বিকভাবে ভঙ্গুর পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে তিব্বতের কেরুং ও মানস সরোবরের দিকে এগিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিব্বত সীমান্তবর্তী লহেন্দে ও ভোটেকোশী নদী ব্যবস্থায় অতিরিক্ত জলস্ফীতি এবং আকস্মিক বিপর্যয়ের ফলেই এই রাস্তা, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পরিকাঠামো নিমেষের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাধারণ কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের স্রোতই এই ভয়ংকর হড়পা বানের আসল কারণ।

এদিকে, এই চরম সংকটের মুহূর্তে নিখোঁজ ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও কান্নার রোল উঠেছে। ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলি স্থানীয় প্রশাসন ও চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবেশ প্রতিকূল হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। পবিত্র কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার এই মরশুমে এই ধরনের নজিরবিহীন বিপর্যয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের পরিকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম অনিশ্চয়তাকেই আবারও অত্যন্ত জোরালোভাবে উসকে দিল।