তেঁতুল পেড়ে দেওয়ার লোভ! স্কুল চত্বরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার দায়ে যুবকের সাজা

পুরুলিয়ার এক স্কুল চত্বরে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তেঁতুল পেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার জেলা ও দায়রা আদালত ২ স্পেশাল কোর্টের বিচারক রানা দাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। সেই বছরের ৬ মার্চ বাঘমুন্ডি থানায় নাবালিকার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে এবং ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ৭ মার্চ ভোরে অভিযুক্ত মুন্না আনসারিকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার গৌতম কুমার মাহাতো দ্রুততার সঙ্গে আদালতে চার্জশিট জমা দেন, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে সাহায্য করে।
মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পকসো) রবিশঙ্কর ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানান, পকসো আইনের ৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিচারক মুন্না আনসারিকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের জেলের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, পকসো ধারায় মামলা রুজু করার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সক্রিয় ও পেশাদার ভূমিকা পালন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ সকাল সাড়ে দশটার দিকে ৯ বছরের ওই নাবালিকা স্কুলে গিয়েছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্ত যুবক তাকে স্কুল চত্বরের গাছে থাকা তেঁতুল পেড়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে স্কুলের পেছনের দিকে নিয়ে যায়। এরপর তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গ স্পর্শ করে এবং তাকে মাটিতে ফেলে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। নাবালিকাটি ভয়ে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কান্নাকাটি করতে করতে শিশুটি বাড়িতে ফিরে সমস্ত ঘটনা তার বাবাকে জানায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি লড়াইয়ে নামে পরিবার। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্যাতিতার বাবা বলেন, অভিযুক্ত যে জঘন্য ও পৈশাচিক অপরাধ করেছে, এই সাজা তার উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। এই রায় সমাজে একটি জোরালো বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।