উদ্ধার ৮৪, এখনও খোঁজ মেলেনি ২৯০ ভারতীয়ের! নতুন করে কোন আতঙ্কে কাঁপছে নেপাল?

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রাকৃতিক তাণ্ডব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৪০০ ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সর্বাধিক।

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য বলছে, নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় কর্মী এবং তামিলনাড়ু থেকে যাওয়া ২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। রাসুয়া ও সংলগ্ন এলাকায় আটকে থাকা ভারতীয়দের পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে চিনের অধীনে থাকা তিব্বতে আটকে থাকা প্রায় ২০০ জন ভারতীয়কে সসম্মানে দেশে ফেরাতে চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদেশ মন্ত্রক তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।

এদিকে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে। ধস ও পলি জমে ভোটকোশি নদীর উপরে একটি বিপজ্জনক ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা হ্রদ তৈরি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে তার জলস্তর। চিনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আশপাশে ওই জলাধার ভেঙে ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল নেমে আসতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

রাস্তাঘাট ও সেতু সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই নেপালি সেনা ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্নিফার ডগের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানোর পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিতদের উদ্ধারের আশাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে।