তেষ্টায় প্রাণ যায় তবুও মাটি থেকে জল খায় না এই অদ্ভুত পাখি! নেপথ্যের কারণ জানলে চোখ কপালে উঠবে

মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি—জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। হাতের কাছে নদী, পুকুর বা জলাশয় পেলে যে কোনো প্রাণীই জল পান করে তৃষ্ণা মেটায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন এক অদ্ভুত পাখি রয়েছে, যা চরম তৃষ্ণায় প্রাণ যাওয়ার উপক্রম হলেও মাটি থেকে এক ফোঁটা জলও পান করে না! শুনতে অবাক লাগলেও এই অবাক করা স্বভাবের পাখিটির নাম ‘চাতক’।
চাতকের অদ্ভুত জীবনযাত্রা ও পরিভ্রমণ
প্রতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ভারতে উড়ে আসে চাতক পাখিরা। স্থানীয় মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা এই পাখির আগমনকে বর্ষার আগমনী বার্তা হিসেবেই ধরে নেন। এদের স্বভাব ও জীবনযাপন সাধারণ পাখিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
কেন মাটি থেকে জল খায় না?
বিজ্ঞান ও প্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, চাতক পাখির ঠোঁটের গঠন এবং তাদের সহজাত স্বভাবই এর মূল কারণ। পুকুর, নদী বা হ্রদের জমা জল এরা একদমই পছন্দ করে না। নদী বা পুকুরের জল এরা ছুঁয়েও দেখে না। আকাশ থেকে সরাসরি ঝরে পড়া বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা ছাড়া এরা তৃষ্ণা মেটায় না। বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করে এই পাখি। এমনকি এই স্বভাবের কারণেই প্রাচীন সংস্কৃতে তীব্র প্রতীক্ষাকে ‘চাতকের অপেক্ষা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে।
বৃষ্টির অভাব হলে এরা গাছের পাতার জল বা ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে শরীর সতেজ রাখে, কিন্তু ডাঙার জল পানের কথা ভুলেও ভাবে না। এছাড়া আরেকটি অবাক করা তথ্য হলো, কোকিলের মতো চাতকও নিজের কোনো বাসা তৈরি করে না। অন্য ছোট পাখির বাসাতেই এরা ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়। প্রকৃতির এমন রহস্যময় নিয়মেই অদ্ভুত এক জীবন কাটায় এই চাতক পাখি।