বিধানসভার ১৯টি বই ফেরত দিচ্ছেন না মমতা? গ্রন্থাগার মন্ত্রীর কড়া হুঙ্কার ঘিরে রাজ্যে শোরগোল!

রাজ্য বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে রবীন্দ্র রচনাবলির ১৯টি বই নিয়ে তা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত না দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সাধারণ পাঠকদের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা সকলের জন্যই সমান হবে জানিয়ে কড়া শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মন্ত্রীর কড়া বার্তা ও হুঁশিয়ারি
সুরিতে বিবেকানন্দ লাইব্রেরির ১২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তারকা বা ভিআইপিদের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম থাকতে পারে না। লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে তা যদি যথাসময়ে ফেরত না দেওয়া হয়, তবে নিয়মানুযায়ী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর লেখা নির্দিষ্ট কিছু বই কেনার জন্য একতরফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। ওই বইগুলির সাহিত্যিক মান ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি সরকারি লাইব্রেরিগুলি থেকে ওই বিতর্কিত বইগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি, লাইব্রেরিগুলির পঠনপাঠন ও সংস্কৃতির পরিবর্তনে বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, এখন থেকে সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ ও মহান ব্যক্তিত্বদের লেখা বইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে এমন মানসম্মত বইয়ের ওপরই আগামী দিনে বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জারি করা একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত, যেখানে বিভিন্ন লাইব্রেরির জন্য নির্দিষ্ট কিছু বই কেনার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং তাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বেশ কিছু বইও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।